শিশুদের রক্তে ভিজছে গাজা

আপলোড তারিখঃ 2021-05-19 ইং
শিশুদের রক্তে ভিজছে গাজা ছবির ক্যাপশন:
ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের আর্তনাদ, মৃত ২১২ জনের মধ্যে ৬১ জনই শিশু
সমীকরণ প্রতিবেদন: গাজায় ইহুদি নৃশংসতা। ক্ষোভে জ্বলছে সারাবিশ্ব। রেহাই পাচ্ছেন না ঘুমন্ত শিশুও। ইহুদি হামলায় থেঁতলে যাচ্ছে শিশুদের শরীর। মায়ের কোলে ঘুমন্ত শিশুর লাশ। রক্তেভেজা কাপড়ের আস্তর মায়েদের শরীরে। গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের আর্তনাদ। পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এখনো হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। নিরপরাধ শিশুর রক্তে ভিজে যাচ্ছে মাটি। একটি দুটি নয়, কমপক্ষে গতকালও ৫৮টি শিশুর রক্তে হাত রঞ্জিত করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাবে, প্রতি ঘণ্টায় গাজায় আহত হচ্ছে কমপক্ষে তিনটি শিশু। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঘৃণ্য ইসরায়েলি তাণ্ডবে হতবাক বিশ্ব। ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ চলছেই। ইসরায়েলি গোলার আঘাত থেকে গণমাধ্যম অফিসও রেহাই পাচ্ছে না। ২০১৪ সালের পর গাজায় এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বর্বরোচিত হামলা বলে খবরে উল্লেখ করা হচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গতকালও সকাল থেকে গাজার অন্তত ৬৫টি স্থানে বিমানহামলা হয়েছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনই শিশু। হামাসের রকেটহামলায় ১০ জন মারা গেছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানহামলায় গাজায় ৩৮ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে আড়াই হাজার। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, হামাস এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি রকেটহামলা চালিয়েছে। ৯ দিন ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার কারণে চরম মানব বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিনে। জায়নবাদী বর্বরতায় ঘর ছেড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এরমধ্যে একেবারেই আশ্রয়হীন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়ে তাদের ঠাঁই হয়েছে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব ক্যাম্পে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মানুষ বাস করছেন। এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। নেই পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড়ের কারণে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাস। চলমান হামলায় ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গৃহহীন ফিলিস্তিনিরা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আশ্রয় নিতেন। তবে এবার তারা ছুটছেন সীমান্তের দিকে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান বাইডেনের : গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আট দিনের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার পর যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি গত সোমবার ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পক্ষে তার সমর্থন ব্যক্ত করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়। জো বাইডেন সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ ফোনকলেই তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পক্ষে তার মত দেন। তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন, মিসরসহ বেশকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সহিংসতা নিরসনের লক্ষ্যে। যুদ্ধবিরতির পক্ষে বাইডেন তার সমর্থন ব্যক্ত করলেও রোববার ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আহ্বান সংবলিত বিবৃতি আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে নিরাপত্তা পরিষদের রোববারের বৈঠক থেকে কোনো ফল আসেনি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সহিংসতা এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে। এটি বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই সংঘাতে গাজায় এখন পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনই শিশু। হামাসের রকেটহামলায় ১০ জন মারা গেছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে গাজায় যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই উগ্রবাদী। বেসামরিক যারা মারা গেছেন সেগুলো অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু বলছে ইসরায়েল। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানহামলায় গাজায় ৩৮ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে আড়াই হাজার। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরপরাধ লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। দুই নেতা গাজায় হামাস ও অন্য ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের’ বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন নিয়েও আলোচনা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির পক্ষে তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত বন্ধে মিসরসহ অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, হামাস এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি রকেটহামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে গত রোববার জরুরি বৈঠকে বসে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ‘সুরক্ষা বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব তোলে তুরস্ক। ফিলিস্তিনি গণহত্যায় বাইডেনও দায়ী থাকবেন জানালেন এরদোগান : ফিলিস্তিনে নিপীড়ন সত্ত্বেও ইসরায়েলের পক্ষ নেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তেল আবিবে পক্ষ নেয়ায় ফিলিস্তিনি গণহত্যায় বাইডেনও দায়ী থাকবেন বলে অভিযোগ এরদোগানের। এরদোগান বলেন, তথাকথিত আর্মেনিয়া গণহত্যায় নিন্দা জানানো জো বাইডেন এবার পক্ষ নিলেন ইসরায়েলের। অথচ শত শত মানুষকে হত্যা করেছে জায়নবাদীরা। ফিলিস্তিনে চলমান হত্যাকাণ্ডে তেল আবিবের পক্ষ নিয়ে নিজেই নিজের হাত রক্তাক্ত করলেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুজালেমে নতুন প্রশাসক চান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আঙ্কারায় গত সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। খবর আনাদোলুর। এরদোগান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কূটনৈতিক ও সামরিক উভয়ভাবেই সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, মুসলিমদের পবিত্রতম মসজিদে হামলাকারী এবং নিরপরাধ নারী-শিশুসহ ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের ওপর বোমাহামলাকারী ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল এ প্রাচীন নগরীর কর্তৃত্ব করতে পারে না। অসহায় ফিলিস্তিনিদের কোনো যুদ্ধবিমান নেই, ইসরায়েল কেন গাজায় যুদ্ধবিমান দিয়ে আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে? এ সময় তিনি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান অস্ট্রিয়ার। এরদোগান বলেন, অস্ট্রিয়ার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা ফিলিস্তিনে অসহায় মুসলিমদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যার অপেক্ষায় আছে। দখলদার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও কড়া সমালোচনা করেন এরদোগান। ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন আমেরিকার : গাজা উপত্যকায় নারকীয় তাণ্ডবের মধ্যেই ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কাছে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে এমন ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করে আমেরিকা। মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর দিয়েছে। দৈনিকটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে গত ৫ মে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি কংগ্রেসকে জানানো হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এ বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার পর অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন না করার জন্য কংগ্রেস ২০ দিন সময় পাবে। অবশ্য এ বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের বিষয়টি মানতে বাধ্য নয় মার্কিন সরকার। জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন এমন সময় এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করতে যাচ্ছে যখন ইহুদিবাদী বাহিনী নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সর্বগ্রাসী আগ্রাসন চালাচ্ছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা গাজা উপত্যকার বেসামরিক অবস্থানগুলোতে দখলদার বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন দাবি করছেন, ইসরায়েল আত্মরক্ষার স্বার্থে এ হামলা চালাচ্ছে। আমেরিকার আপত্তির কারণে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাসের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ধর্মঘটে ইসরায়েলি পুলিশের হামলা, আহত শতাধিক: গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের ডাকা ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবারের এ কর্মসূচিতে ইসরায়েলি পুলিশের হামলায় অন্তত শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। গতকাল এ ধর্মঘটের অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরের রামাল্লা, বেথলেহেম, নাবলুস, হেবরন এবং ইসরায়েলের হাইফা, নাজারেথ, লুদসহ বিভিন্ন শহরে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করা হয়। পশ্চিম তীরের বেথলেহেম ও রামাল্লায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুসারে ইসরায়েলি পুলিশের হামলায় অন্তত শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। মসজিদুল আকসা চত্বরে মুসল্লিদের ওপর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরায়েলকে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামাস রকেটহামলা শুরু করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে শত শত রকেট নিক্ষেপ করেছে হামাস। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশকিছু রকেট ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাতহানে। রকেটহামলায় ইসরায়েলের ১২ অধিবাসী নিহত ও ৫৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইসরায়েল ভূখণ্ডে হামাসের রকেটহামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমানহামলা শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ২১৩ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরো এক হাজার ৫শ জন আহত হয়েছেন। গাজায় বোমাহামলা যুদ্ধাপরাধের সমান, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বক্তব্য দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরও)। সংস্থাটি বলছে, গাজায় চালানো ইসরায়েলি বোমাহামলা যুদ্ধাপরাধের সমান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার বিষয়টি সামনে রেখে সংস্থার পক্ষে এমন বক্তব্য দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক মুখপাত্র ওমর শাকের। আল জাজিরাকে ওমর শাকের বলেছেন, গাজা উপত্যকায় আমরা দেখেছি যে, ইসরায়েলি বিমানগুলো বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে; যে ভবনগুলোতে শত শত পরিবার রয়েছে। বোমাহামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বোমাহামলার এসব ঘটনা যুদ্ধাপরাধের সমান। সমুদ্রে ইসরায়েলি গ্যাস প্ল্যাটফর্মে হামলাচেষ্টা হামাসের : ইসরায়েলি গ্যাস প্লাটফর্মে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। মানুষবিহীন সাবমেরিন দিয়ে সমুদ্রে এ হামলার চেষ্টা করে হামাস যোদ্ধারা। জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন ব্যবহার করে সোমবার রাতে ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলি তেল ও গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রে হামলা চালায় হামাস। তবে কোনো রকেট গ্যাস স্থাপনার কাছাকাছি আসতে পারেনি। হামাসের কাছে যেসব সাবমেরিন ড্রোন রয়েছে সেগুলো ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলো দাবি করেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের উপকূলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ইসরায়েলের বেশকটি গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো হামাসের রকেটহামলার ভয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বর্বর হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এ সময়ে ইসরায়েলের বিমানহামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরায়েল ঘোষণা হামাসের : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উপর সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সংগ্রামীদের পূর্বশর্ত মেনে নিতে ইহুদিবাদী ইসরায়েল বাধ্য হবে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অন্যতম মুখপাত্র আব্দুল লতিফ আল-কানু। গত সোমবার গাজায় এক বক্তব্যে তিনি এমনটাই জানান। আব্দুল লতিফ আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামী সংগঠনগুলোর বেধে দেয়া পূর্বশর্ত মেনে না নেয়ার জন্য ইহুদিবাদী ইসরায়েল সময়ক্ষেপণ করছে এবং নিজের পরাজয় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আজ হোক কিংবা কাল ইসরায়েল সরকারকে প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর পূর্বশর্ত মেনে নিতেই হবে। নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি ইসরায়েল, বলছেন সামরিক কর্মকর্তারা: ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে অব্যাহতভাবে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বিমানহামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। অপরপক্ষে পাল্টা জবাবে ইসরায়েল অভিমুখে সহস্রাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে হামাস। গত সাতদিনে সর্বোচ্চ রকেটহামলার মুখোমুখি হয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে রোববার পর্যন্ত গাজা থেকে ৩ হাজার রকেট ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলে। ইসরায়েলি আর্মি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান জেনারেল উরি গর্ডিন বলেছেন যে, তারা বর্তমানে একটি নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় গর্ডিন বলেন, গত সোমবার চলমান সংঘর্ষের শুরু থেকে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি দলগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই চিত্রটি ২০১৯ (৫৭০) এবং ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধে (১৯ দিনের মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ রকেট) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ওফির গেন্ডেলম্যান এর আগে টুইটারে বলেছিলেন যে, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্তমান ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে হামাস ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ২ হাজার ৯০০ রকেট নিক্ষেপ করেছে, যদিও তার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি গাজা ভূখণ্ডের মধ্যেই পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, আয়রন ডোমের মাধ্যমে তারা অধিকাংশ রকেটহামলা আকাশেই ঠেকিয়ে দিচ্ছে। তবে এবার গাজা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেটহামলার পরিপ্রেক্ষিতে আয়রন ডোমের দুর্বলতা সামনে আসছে। গাজা থেকে ছোড়া অনেক রকেট আয়রন ডোম ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন ফিলিস্তিন পরিচালক জ্যাসন লি’র প্রশ্ন রেখেছেন, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের পদক্ষেপ নেয়ার আগে আর কতো পরিবারকে তার প্রিয়জন হারাতে হবে? যখন বাড়ির উপর বিমান থেকে বোমাবৃষ্টি হয়, তখন শিশুরা কোথায় আশ্রয় নেবে? গাজার পরিবার এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের স্টাফরা বলছেন, পরিস্থিতি ব্রেকিং পয়েন্টে। তারা বসবাস করছেন নরকে। আশ্রয় নেয়ার মতো কোনো স্থান নেই। গাজায় ইসরায়েলের অসম শক্তি প্রদর্শনে সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। কিন্তু কেন? হামাসকে শায়েস্তা করার নামে বেসামরিক লোকজনের ওপর কেন এই নৃশংসতা? কেন বেসামরিক লোকজনের বাড়ি, মিডিয়া হাউজ গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। শিশুর আর্তনাদে আশপাশের মানুষ হাউমাউ করে কাঁদছেন। ইসরায়েল হামাস ধ্বংসের নামে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে জনপদ, বিশাল বিশাল টাওয়ার। এমনকি তাদের রক্তের নেশা থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল পর্যন্ত।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)