ছবির ক্যাপশন:
এনওসি না পাওয়ায় দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে পারেনি আটকে পড়া বাংলাদেশিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক/দর্শনা অফিস:
দূতাবাসের ছাড়পত্র (এনওসি) না পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে পারেনি ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। রোববার ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। এজন্য চেকপোস্টে সবধরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। এর আগে শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় চেকপোস্টের প্রস্তুতি, আগতদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার যাবতীয় বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন করার স্থানগুলো পরিদর্শনও করেন জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন সূত্র জানিয়েছে, ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা সে দেশের দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় দেশে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে এনওসি ও করোনা রিপোর্ট হাতে পেলেই তাদেরকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন জানান, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভারতে গিয়েছিল। তারপর তারা সেখানে আটকা পড়ে। এই চেকপোস্ট দিয়ে এমন প্রায় ৩ শতাধিক যাত্রীদের দেশে ফিরেয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার থেকে তাদের দেশে প্রবেশের জন্য সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দেশে প্রবেশের পর দর্শনা চেকপোস্টে তাদেরকে হেলথ স্ক্রিনিং ও করোনা পরীক্ষা করা হবে। করোনা শনাক্তদেরকে রাখা হবে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে। এছাড়া আগত সবাইকে রাখা হবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে। এনওসি না থাকায় রোববার এ পথ দিয়ে কেউ দেশে আসতে পারেনি। তবে আজ সোমবার তাদের দেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে, শনিবার কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে দর্শনা চেকপোস্ট ব্যবহার করে দেশে আসতে পারবে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। এজন্য দর্শনা চেকপোস্টে সবধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশে আসা মানুষদের জন্য যাতে সংক্রমণ ঝুঁকি তৈরি না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবাইকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিতে এরইমধ্যে অন্তত ৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ৪টি হোটেল নির্ধারন করা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পর তাদের বাড়িতে অবস্থানের অনুমতি দেয়া হবে। প্রথম দিনে আগত যাত্রীদের রাখা হবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউট ভবনে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, দেশে প্রবেশের পর চেকপোস্টে হেলথ স্ক্রিনিং ও এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। সেখানে কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হন তবে তাকে বিশেষ পরিবহনের মাধ্যমে নেয়া হবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে। যাত্রী আনা নেয়ার জন্য রাখা হবে নির্দিষ্ট যানবাহনের ব্যবস্থা। দেশে আসা বাংলাদেশিদের এসব নির্দেশনা মানাতে জেলা পর্যায়ে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া ওই কমিটিতে পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিজিবি, আনসার, সাংবাদিক ও পরিবহন মালিককে রাখা হয়েছে।
ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি’র অধিনায়ক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আলমগীর হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আলামিন, সম্পাদক রাজীব হাসান কচিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
