ছবির ক্যাপশন:
মেহেরাব্বিন সানভী:
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। চুয়াডাঙ্গায় ঈদকে কেন্দ্র করে এখন পোশাক কেনার পাশাপাশি মানুষ ছুটছে মাংস, মিষ্টি ও মসলার বাজারে। ভোজনপ্রিয় বাঙালীর ঈদে আপ্যায়নের অন্যতম অনুষঙ্গ মাংস, মিষ্টি, সেমাই ও দই। তাই ভিড় বেড়েছে মিষ্টির দোকানে। ক্রেতারা মিষ্টি, দই, সেমাই ও চিনি কেনার পাশাপাশি, ঘি, পোলাও চাল, কিসমিস, গরম মসলা ও মাংস বেশি কেনাকাটা করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা।
এবারের শেষ রমজানে চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। মাংসের বাজারের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা গরু বা খাসির জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। প্রচুর ভিড়ে ঠেলাঠেলি করে মাংস কিনতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। শহরের বড় বাজার মাংস পট্টি, রেল বাজারসহ পাড়া মহল্লার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাংসের বিক্রি দেখা গেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মিষ্টির দোকানেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। শহীদ হাসান চত্বরে যেমন মালসা, ছোবা (দইয়ের পত্র বিশেষ) ও বাটি দইয়ের বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ভিড় করেছে। ঠিক তেমনি শহরের কোর্ট মোড়ের কাশফুল, বড় বাজারের মিষ্টি মেলা, সাপ্পান, খন্দকার সুইটস, রেল বাজারের কালিপদসহ সবকটি মিষ্টি দোকানের বিক্রেতা প্রচুর ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভিড় যেন কমছেই না। করিগরেরাও কারখানাগুলোতে ব্যস্ত আছেন মিষ্টি ও দই তৈরিতে।
এদিকে, বাজারের মুদিদোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বনফুল, কুলসন, প্রাণ, ইরফান, ওয়েল ফুড, কিশোয়ান, ড্যানিশ, প্রিন্সসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই রয়েছে। এছাড়া খোলা লাচ্ছা সেমাইতো রয়েছেই। সেমাই-চিনি ছাড়াও বিভিন্ন মসলা, গুঁড়ো, দুধ, ঘি, সয়াবিন তেল, নারিকেল, সুগন্ধি চাল, কিশমিশ, বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদামসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, দুই বছর আগেও ঈদের ১৫ দিন আগে থেকে সেমাই-চিনি কেনার জন্য মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। বিশেষ করে শবে কদরের আগে থেকে সেমাই এবং চিনি বিক্রির চাপ থাকতো সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন সেমাইয়ের সেই রকম বিক্রির চাপ কম। করোনা আতঙ্কে মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই আগের মতো আপ্যায়নও নেই। ফলে সেমাই-চিনির চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে যা সেমাই বিক্রি হচ্ছে তা শুধুমাত্র পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য কিনছে ক্রেতারা।
দোকানগুলোতে এরফান, বনফুল, প্রাণ, ওয়েল ফুড, কুলসন, কিশোয়ান, ড্যানিশ ও প্রিন্স ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আর ৫০০ গ্রামের স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর খোলা চিকন সেমাই কেজিপ্রতি মান ও দোকান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া অন্যদিকে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এদিকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। এক সপ্তাহ আগে প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকায়।
এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে গরম মসলার বিক্রি বাড়ায় দামেও প্রভাব পড়েছে। কেজিপ্রতি জিরা ৪২০ টাকায়, বাদাম ১৪০ টাকায়, কাজু বাদাম ৯০০ টাকায়, এলাচ ২৫০০ টাকায়, লবঙ্গ বিক্রি করছে ৮০০ টাকায়, দারুচিনি ৪৫০ টাকায়, কিশমিশ ৪০০ টাকায়, গুঁড়া দুধ ৬৫০ টাকায়, পোলায়ের চাল ৯০-১০ টাকায়, ঘি ১২০০ টাকায়, পেয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভোজ্য তেল লিটারপ্রতি ১৩৬ টাকায় ও তরল দুধ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যে মধ্যে পেয়াজ, গুঁড়া দুধ, ঘি ও তেলের দাম বেশি বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা কোর্ট রোডের কাশফুল মিষ্টির দোকানে মিষ্টি ও দই কিনতে আসা রাজিব হোসেন বলেন, ঈদের দিন সকালে সেমাই বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়েই দিন শুরু করা হয়। এরপর ঈদের নামাজে যাই। এ কারণে রোজার ঈদে সেমাই কেনায় আগ্রহ বেশি থাকে সাধারণ মানুষের।
অপরদিকে, নিচের বাজারে মাংসের দোকানে প্রচুর ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। গুরুর মাংস জেলা প্রশাসন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া দাম গরুর মাংস ৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০ টাকা, বকরি ৬০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অনেক ক্রেতারই অভিযোগ মাংসের নির্ধারিত দাম থেকে কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
সবমিলিয়ে করোনাকালীন সময়েই শেষ দিনেই ঈদ বাজার জমে উঠেছে বেশ ভালো রকমে। পোশাক থেকে শুরু করে মাংস আর মিষ্টি সব বাজারেই ভিড় বেড়েছে। এখন, রাত পোহালেই ঈদ আর আনন্দ।
