ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ৩৮৬ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ১১ হাজার ৯৩৪ জন। আর শনাক্ত হয়েছেন মোট ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩২৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ১০ হাজার ১৬২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৫টি। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৮৬ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্তের হার ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বুঝতে পারার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই মহামারিকালে গত বছরের ডিসেম্বেরের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাস দুয়েক পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।
গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। মার্চ থেকে শুরু হয় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। মার্চের শেষ দিকে এসে দেশে নতুন রোগী বাড়তে শুরু করে লাফিয়ে। সঙ্গে বাড়তে থাকে মৃত্যু। সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। যদিও তা ছিল ঢিলেঢালা। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আবারও সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এখনো সে প্রবণতা অব্যাহত।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, করোনার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেওয়া লকডাউনের প্রভাবে সংক্রমণ নিম্নমুখী হয়েছে। তবে এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবার খারাপ আকার ধারণ করতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ছয়জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৪ জন। গতকাল নতুন আক্রান্ত ছয়জনই সদর উপজেলার বাসিন্দা। এদিকে শুধুমাত্র সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে, আলমডাঙ্গায় ৩৫৭ জন, দামুড়হুদায় ৩২৫ জন ও জীবননগরে ২০০ জন। গতকাল জেলায় নতুন কেউ করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭৬৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৪৭জন, আলমডাঙ্গার ৩৩৪ জন, দামুড়হুদার ৩০০ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত শনিবার জেলা স্বাস্থবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং থাকা একটি নমুনার ফলাফলসহ মোট ২৩টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে আসে। এর মধ্যে ৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১৭টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য নতুন ৩০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। এনিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪১৪টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৪১৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ১৭৫টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮৮৪টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ২৫৭টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৬১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন, আলমডাঙ্গায় ৫ জন, দামুড়হুদায় ১৪ জন ও জীবননগরে ১২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৫২ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২২ জন, আলমডাঙ্গায় ৪ জন, দামুড়হুদায় ১৪ জন ও জীবননগরে ১২ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৫ জন, আলমডাঙ্গার ১ জনসহ ৫জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৬ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৪ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
