ছবির ক্যাপশন:
অনেক বিপত্তি পেরিয়ে ঢাকা থেকে নিজ শহর চুয়াডাঙ্গায় কবির
রুদ্র রাসেল:
ঈদ মানেই আনন্দ, আর ঈদের আনন্দ অবশ্যই আর সব আনন্দ থেকে আলাদা। এই আনন্দের সঙ্গে আর কোনো আনন্দের তুলনা চলে না। এই দিনটির জন্য সারা বছর প্রতীক্ষা করা হয়। ঈদ তো একটা পুনর্মিলনীর মতো। অনেক বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে এই দিনে দেখা হয়। তবে ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার যাত্রাটা একটা পরীক্ষা। বাস বা ট্রেনের টিকিট পেতে ঘরমুখো মানুষের একটু ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। কিন্তু এই লকডাউনে যখন ট্রেন বা দূর পাল্লার বাস চলাচলই বন্ধ তখন বাড়ি ফেরাটা অনিশ্চিত।
আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঢাকা থেকে নিজ বাড়ির ঠিকানা চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছিলেন কবির হোসেন। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড়ে পৌঁছান। কথা হয় ঢাকা থেকে নিজ শহরে পৌঁছানো কবির হোসেনের সঙ্গে। লকডাউনে ঢাকা থেকে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা ফেরার গল্পে তিনি বলেন, ‘ঢাকার একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে সুপারভাইজার পোস্টে চাকরি করি। গত ৬ মাসে বিভিন্ন ঝামেলায় বাড়ি ফিরতে পারিনি। তাই এই ঈদে একটু আগেই ছুটি চেয়েছিলাম। গত শুক্রবার থেকে আগামী ২২ তারিখ পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি পেয়েছি। কিন্তু বাস বন্ধ, ট্রেন বন্ধ কীভাবে বাড়ি ফিরব, এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। অবশেষে পথে বিভিন্ন পরিবহন বদলেই বাড়ি ফিরব বলে ঠিক করি। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার জন্য গোছগাছ সেরে একমাত্র মেয়ে, মা-বাব ও স্ত্রীর জন্য ঈদের কেনা কাটা করি শনিবার বিকেল পর্যন্ত। রাতে সাভার থেকে একটি প্রাইভেটকার ২ হাজার টাকায় ভাড়া করি পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত। যাত্রী ৪ জন, প্রত্যেকে পাঁচশ টাকা করে। প্রাইভেট কারে আমাদেরকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও ঘাটের আগে একটি পুলিশ চেকপোস্টে আমাদেরকে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে পায়ে হেটে ঘাটে পৌঁছায়। ঘটের আগে থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে, ফেরিতে যানবাহনের বিপরীতে ছিল শুধু মানুষ আর মানুষ। সেখানে ঘণ্টা তিনেক চেষ্টার পর ফেরিতে উঠতে সফল হই। আমারর মত শত শত যাত্রী একইভাবে বাড়ি ফিরছেন। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে একটি লোকাল বাসে করে রাজবাড়ি পৌঁছায়। সেখানে একটু খাওয়া দাওয়া শেরে বিশ্রাম নিয়ে অন্য একটি বাসে কুষ্টিয়া আসি। অবশেষে কুষ্টিয়া থেকে আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌঁছেছি। চুয়াডাঙ্গা পৌঁছে একটু প্রশান্তির হাওয়া এই দীর্ঘ যাত্রার যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়েছে। একটু পরেই আপন মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হবে।’ এ কথা বলতেই কবির হোসেনের মুখে আনন্দের রেখা ফুটে ওঠে। সময় বিলম্ব না করে দীর্ঘ যাত্রা পথের গল্প শুনিয়ে নিতি রিকশা নেনে আপন বাড়ির উদ্দেশ্যে।
উল্লেখ্য, টানা তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন চালু শুরু হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সব জেলায় বাস চলাচল শুরু হয়। তবে চালু হয়নি আন্তঃজেলা গণপরিবহন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার চলতি বছর প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরও দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধি-নিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। সেটি পরে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আবার তা ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা আবার বাড়ল। তবে গত ২৫ এপ্রিল থেকে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হয়েছে। খোলা রয়েছে ব্যাংকও। এ ছাড়া জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অফিসগুলোও খোলা।
