ছবির ক্যাপশন:
নতুন করে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ছয়জন করোনায় আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৪২ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১১ হাজার ৭৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৮ জন। গতকাল বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৩৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪২ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় আক্রান্তের হার ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বুঝতে পারার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই মহামারিকালে গত বছরের ডিসেম্বেরের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাস দুয়েক পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। মার্চ থেকে শুরু হয় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। মার্চের শেষ দিকে এসে দেশে নতুন রোগী বাড়তে শুরু করে লাফিয়ে। সঙ্গে বাড়তে থাকে মৃত্যু। সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। যদিও তা ছিল ঢিলেঢালা। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আবারও সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এখনো সে প্রবণতা অব্যাহত। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেওয়া লকডাউনের প্রভাবে সংক্রমণ নিম্নমুখী হয়েছে। তবে এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবার খারাপ আকার ধারণ করতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য প্রকাশ করে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৭২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯৪ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৫৭ জন, দামুড়হুদায় ৩২২ জন ও জীবননগরে ১৯৯ জন। গতকাল জেলায় নতুন পাঁচজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৩৫ জন, আলমডাঙ্গার ৩৩০ জন, দামুড়হুদার ২৯৪ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ ২৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। এর মধ্যে তিনটি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ২২টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। এনিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৩৪৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ১১৪, পজিটিভ ১ হাজার ৮৭২টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ২০৭টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৭২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন, আলমডাঙ্গায় ১০ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৬৩ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ জন, আলমডাঙ্গায় ৯ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১১ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৪ জন, আলমডাঙ্গার ১ জনসহ ৫জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৫ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৪ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল মেহেরপুর সিভিল সার্জন এ তথ্য জানান। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন মেহেরপুর সদর উপজেলার ও অপর একজন মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৯২৪ জনে। গত ১৪ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মেহেরপুরে ১৫৪ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৮টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৩টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল জেলা থেকে আরও ১৭টি নমুনা পরীক্ষার প্রেরণ করা হয়েছে। মেহেরপুরে বর্তমানে ২৬জন করোনা সক্রিয় রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলো। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, গাংনীতে ৬ জন, মুজিবনগরে ৫ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৮০৯ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৬৭ জনকে।
