ছবির ক্যাপশন:
২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৬১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯১৪
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ হাজার ৭০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ জন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়েছেন ৩ হাজার ৮৭০ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ছয় লাখ ৯৫ হাজার ৩২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ হাজার ৯১৪টি। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় আক্রান্তের হার ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর দেশৈ করোনার সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য প্রকাশ করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯৩ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৫৫ জন, দামুড়হুদায় ৩২২ জন ও জীবননগরে ১৯৯ জন। গতকাল জেলায় নতুন আটজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭৩৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৩০ জন, আলমডাঙ্গার ৩৩০ জন, দামুড়হুদার ২৯৪ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত সোমবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনার মধ্যে ৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। এর প্রত্তেকটি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩২৫টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৩২৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৮৯, পজিটিভ ১ হাজার ৮৬৯টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ১৮৫টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৭৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৬৫ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১১ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৪জন, আলমডাঙ্গার ১ জনসহ ৫জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৫ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৪ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
