ছবির ক্যাপশন:
রমজানকে পুঁজি করে মুজিবনগরে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম, নেই প্রশাসনিক মনিটরিং
প্রতিবেদক, মুজিবনগর:
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য-পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা মুজিবনগরের মানুষ। বিশেষ করে শসা, বেগুন, তরমুজ ও পাঁকা কলার দর বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে। তদারকি কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় বাজারের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। এতে দিন দিন ব্যাপক ক্ষোভ জমা হচ্ছে ভোক্তাদের মনে।
গতকাল মঙ্গলবার মুজিবনগর কেদারগঞ্জ মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দর ছিল গেল সপ্তাহের মতোই। বেগুন, শসা, সজনে ও পটল প্রতি কেজি ৪০-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। সবজির মধ্যে লালশাঁকের দর কিছুটা কমলেও পুঁইশাকের দর বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। কৃষকের খেত আর মুজিবনগরের বাজারগুলোতে বাজারের দরের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও রমজানে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। যা কৃষকের বাগানে বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা হালি। রমজানের আরও একটি বাড়তি চাহিদার পণ্য পাঁকা কলার দামও আকাশচুম্বি। এক কাধি কলা খেতের দর ১২০-১৫০ টাকা। পাঁকিয়ে সেই কলা ২-৩ তিন হালি বিক্রি করলেই উঠে যাচ্ছে কেনা দাম। প্রতি হালি কলার দর এখন ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত।
মুজিবনগর সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে তরমুজের দর। ডাব তো সোনার হরিণ। মৌসুমী সুস্বাদু এ ফলের দিকে ভোক্তাদের আকর্ষণ অনেক বেশি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী তরমুজের একচ্ছত্র ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন অনেক টাকা। বাইরের জেলা থেকে পিস হিসেবে কেনা তরমুজ মুজিবনগর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের শুরু থেকে জেলা উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং ও তদারকির কোনো চিত্র চোখে পড়েনি।
এতে দোকানিরা ইচ্ছেমাফিক দরে বিক্রি করছেন। আর বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেক ক্রেতা সাধ্যের সমন্বয় করতে না পেরে দোকানিদের সাথে তর্কে জড়িয়ে অপমানিত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ^াস উঠেছে। মুজিবনগর বিভিন্ন বাজারের এসব পণ্যের দরকে অগ্নিমূল্য হিসেবে আখ্যায়িত করছেন ক্রেতারা।
