ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধর মৃত্যু : নতুন আক্রান্ত ১ ও সুস্থ ১১
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২২৮ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৯ জনে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ২৪ হাজার ২৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৫ হাজার ২৩৪ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৭ জন।
এর আগে গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) করোনায় ৯৭ জন মারা যান এবং নতুন করে ৩ হাজার ৩০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আলতাব হোসেন (৮৭) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকার মঙ্গলবার রাত ৯টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আলতাব হোসেন চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মসজিদপাড়ার মৃত. ওসমান মণ্ডলের ছেলে। আলতাব হোসেন স্বাশকষ্ট বিভন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োেেলা জোনে ভর্তি কনে। গতকাল সকালেই করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় বৃদ্ধর মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থবিধি মেনে রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে।
এদিকে, গতকাল জেলায় নতুন করে আরও একজনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৮৭ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৫৪ জন, দামুড়হুদায় ৩১৯ জন ও জীবননগরে ১৯৮ জন। গতকাল মঙ্গলবার জেলায় করোনা থেকে নতুন ১১ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯০৩ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৮ জন, দামুড়হুদার ২৯৪ জন ও জীবননগরের ১৮৪ জন।
জানা যায়, গত সোমবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনার মধ্যে ১৫টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে, বাকি ১৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ২৩৪টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ২৩৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ১৫, পজিটিভ ১ হাজার ৮৫৮টি ও নেগেটিভ ৭ হাজার ১২৩টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৯৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ জন, আলমডাঙ্গায় ৯ জন, দামুড়হুদায় ১৪ জন ও জীবননগরে ১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৮১ জন হোম আইসোলেশন আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫০ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ১৩ জন ও জীবননগরে ১০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৬জন, আলমডাঙ্গার ১, দামুড়হুদার ১ জনসহ ৮ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৪ জন, দামুড়হুদায় ১১ জন ও জীবননগরে ৩ জন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
