ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ আহত ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক/আলমডাঙ্গা অফিস:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বাজার ও আলমডাঙ্গা বাদেমাজু গ্রামে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। আহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের পোস্ট অফিসপাড়ার মৃত ফটিক মল্লিকের ছেলে ফজলু মল্লিক (৬৫), আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ (এসআই) মমরেজ ইসলাম ইসলাম, কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম, কনস্টেবল শাহিন ও আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি গ্রামের খাপাড়ার মানোয়ার হোসেনের ছেলে জহির হোসেন (১৮)। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধ ফজলু মল্লিক ও কনস্টেবল তারিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরোজগঞ্জ সিপি সেন্টারের সামনে অবস্থিত নিজের মুদি দোকান বন্ধ করে ইফতার করার জন্য নিজ মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন ফজলু মল্লিক। পথের মধ্যে ডিঙ্গেদহ বাজারের অদূরে পৌঁছালে একই অভিমুখে যাওয়া একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এসময় বৃদ্ধ ফজলু মল্লিক পড়ে গেলে তাঁর ডান হাতের ওপর দিয়ে ট্রাকের একটি চাঁকা চলে যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত ফজলু মল্লিককে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। ফজলু মল্লিকের হাতটি গুরুতর জখম হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এদিকে, গতকাল রাত আটটার দিকে জামজামি পুলিশ ক্যাম্প থেকে একটি মোটরসাইকেলযোগে আলমডাঙ্গা থানার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন এসআই মমরেজ ইসলাম ইসলাম, কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল শাহিন। পথের মধ্যে বাদেমাজু গ্রামের মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ অপর মোটরসাইকেলে থাকা জহির হোসেন আহত হন। স্থানীয় ব্যক্তিরা আহতদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার বাবলু ক্লিনিকে নেয়। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম ও জহির হোসেনের জখম গুরুতর হওয়ায় তাঁদের দুজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত জহির হোসেনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। অপর দিকে, দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া কনস্টেবল তারিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তাৎতক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। গতকাল রাতেই পুলিশি ব্যবস্থায় কনস্টেবল তারিকুল ইসলামকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্যেশে রওনা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকিল আরসালান জানান, আহত পুলিশ সদস্যের পুরো মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাঁর নাকের হাড়সহ দুই মাড়িই মাঝখান বরাবর ভেঙে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহত অপরজনের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁর অবস্থা শঙ্কামুক্ত হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, জামজামি ক্যাম্প থেকে একটি মোটরসাইকেলযোগে তিনজন পুলিশ সদস্য আলমডাঙ্গা থানার দিকে আসছিলেন। পথের মধ্যে বাদেমাজু গ্রামে পৌঁছালে সামনে থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন পুলিশ সদস্যেই আহত হয়েছেন। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক গুরুতর জখম একজনকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেছেন। অপর মোটরসাইকেলের চালকও আহত হয়েছেন চিকিৎসক তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখেছে।
এদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সদর হাসপাতালে ছুটে যান এবং দুর্ঘটনায় আহতদের শারীরিক খোঁজখবর নেন।
