ছবির ক্যাপশন:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬০২৮
সমীকরণ প্রতিবেদক:
করোনায় সংক্রমিত হয়ে দেশে আরও ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৮ জন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৫৫ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এনিয়ে দেশে মোট ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৮৯১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৬ জন। এর আগে গত সোমবার করোনায় ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ৭ হাজার ২০১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে।
গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে।
কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৫ জনের শরীরে করোনা শরাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬১ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৬ জন, দামুড়হুদায় ৩১৪ জন ও জীবননগরে ১৯০ জন। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত পাঁচজনের জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩ জন, আলমডাঙ্গার ১ জন ও জীবননগরের ১ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৫৬ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৩ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ ২১ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৯টি।
জানা যায়, গত সোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল সিভিল সার্জন অফিন উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ১৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে পাঁচজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১২ টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বোশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৯৫৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৭১৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮১১টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৪৬৪টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রত্যেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১০৪জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১০জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
