করোনায় মৃত্যুর ভয়াবহ মিছিল, তবুও নেই সচেতনতা!

আপলোড তারিখঃ 2021-04-13 ইং
করোনায় মৃত্যুর ভয়াবহ মিছিল, তবুও নেই সচেতনতা! ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা এক, ঝিনাইদহে দুজনসহ দেশে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৮৩ জনের প্রাণহানি সমীকরণ প্রতিবেদক: সারা দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২০১ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৮২২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮১ হাজার ১১৩ জন। এর আগে গত রোববার করোনায় ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ৫ হাজার ৮১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেজাউল ইসলাম (৫৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোড় সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫ জনে। নিহত রেজাউল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানা কাউন্সিলপাড়ার মৃত খালেক শিকদারের ছেলে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ জনে। এদিকে গতকাল নতুন করে আরও ২ জনের শরীরে করোনা শরাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৫৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৫ জন, দামুড়হুদায় ৩১৪ জন ও জীবননগরে ১৮৯ জন। গতকাল রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত দুই জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১ জন ও আলমডাঙ্গার ১ জন রয়েছে। গতকাল সদর উপজেলা থেকে নতুন ৬ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৫৬ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৩ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন। জানা যায়, গত রোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল সিভিল সার্জন অফিন উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ১৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে দুজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১১ টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল নিহত রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ৭ এপ্রিল রেজাউল ইসলাম ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ওইদিন সকালেই তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজাউল করিমকে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরদিন ৮ এপ্রিল তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। ৯ এপ্রিল গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় রেজাউল করিমকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোড় সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বোশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৯৩৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৭০০টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮০৬টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৪৫২টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রত্যেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৯৮জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১২জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত হয়ে একদিনে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মৃত্যু হওয়া দুই নারী হলেন আফরোজা সুলতানা (৫৮) ও লিলি বেগম (৪৩)। নিহত আফরোজা সুলতানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মাড়ন্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পবহাটী গ্রামের আব্দুল্লাহ শাহ’র স্ত্রী। অন্যদিকে লিলি বেগম একই গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ আফরোজা সুলতানার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয় পরিবারের সদস্যরা । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেল ৩টার দিকে আফরোজা সুলতানার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গত ৩০ মার্চ শ্বাসকষ্ট আক্রান্ত লিলি বেগমকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১ এপ্রিল তাঁর নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এসময় তাঁকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে স্থান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৫৮৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ২৪১১ জন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)