সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার, গাংনীতে তিন নারী গৃহহীন

আপলোড তারিখঃ 2021-04-13 ইং
সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার, গাংনীতে তিন নারী গৃহহীন ছবির ক্যাপশন:
৩ লাখ টাকায় দিতে হয়েছে ১৩ লাখ, বিক্রি হয়েছে বসতবাড়ি গাংনী অফিস: গাংনীতে সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ও গৃহহীণ হয়েছেন তিন নারী। লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। লিখিত অভিযোগে ওই তিন নারী সুদ ব্যবসায়ীদের নির্মম নির্যাতন অত্যাচারের কাহিনী বর্ণনা করেন এবং প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গাংনীর ধানখোলা গ্রামের আহমেদ আলীর মেয়ে শিল্পী জানান, সাংসারিক প্রয়োজনে তিনি হলপাড়ার মকবুল হোসেনের স্ত্রী বানীয়ারা খাতুনের কাছ থেকে তিন ধাপে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন। শর্ত মোতাবেক শিল্পী খাতুনের স্বর্ণের দুল, চুড়ি, চেইনসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিনটি ব্লাঙ্ক চেক জমা রাখেন সুদ ব্যাবসায়ীরা। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৩ লাখ টাকা প্রদান করার পরেও টাকা পরিশোধ হয়নি মর্মে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন সুদ ব্যবসায়ী বানীয়ারা খাতুন। টাকা গ্রহীতা শিল্পীয়ারা টাকা পরিশোধ করেও স্বর্ণালংকার ও চেক ফেরত পাননি আজো। শিল্পী আরও জানান, টাকা গ্রহণের সময় তাঁর কাছ থেকে আড়াই ভরি সোনার গহনা ও তিনটি ব্লাঙ্ক চেক জমা নেন বাণীয়ারা। তাঁর ধানখোলা গ্রামের জমিসহ বাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করার পরও গহনা আর খালি চেক ফেরত দেওয়া হয়নি। শরিফার নামে মণ্টুর ছেলে নুরজ্জামান বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করলে মামলার তদন্ত করে গাংনী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস। সেখানে দুপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা ও স্বাক্ষ্য প্রমাণের অভাব থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনে শরিফা খাতুনের নামে অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পুলিশের কাছে সুদ ব্যবসায়ী বানীয়ারা অভিযোগ করার কারণে পুলিশ বারবার তাঁর খোঁজ করছেন। বাধ্য হয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে বাড়ি ছেলে বছরখানেক পালিয়ে ছিলেন শিল্পী। শিল্পীয়ারা খাতুনের স্বামী একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী। ১০ বছর আগে মালয়েশিয়াতে যান শিল্পীর স্বামী। এসব কথা শোনার পর শিল্পীর স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। সুদ ব্যবসায়ীদের নির্মম ছোবলে শিল্পী আশ্রয় হারিয়েছেন, অন্যদিকে ছাড়ছেন স্বামীর সংসার। চৌগাছা গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী ঊষা খাতুন জানান, গাংনী বাজারে গার্মেন্ট্সের দোকান দেওয়ার জন্য বানীয়ারার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। ২০১৭ সাল থেকে অদ্যবদি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও আরও টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন বানীয়ারা। টাকা নেওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকেও ব্লাঙ্ক চেক নেওয়া হয়। ঊষা জানান, তিনি হলপাড়ার বাড়ি মিজান দারোগার কাছে বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি বলেন, বানীয়ারা মণ্টুর ও তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে শতকরা ১০ টাকা হারে টাকা নিয়ে অন্যত্র শতকরা ২০ টাকায় সুদে ব্যবসা করেন। অপর দিকে, একই ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১৭ সালে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন চৌগাছার সামসুজ্জামানের মেয়ে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শরিফা খাতুন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। আরও টাকা পাওনা রয়েছে মর্মে দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার সময় যে তিন ভরি সোনার গহনা জমা রেখেছিলেন, তাও ফেরত পাননি শরিফা খাতুন। ওই তিন নারী আরও জানান, হাসপাতাল বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মণ্টুর স্ত্রী মাহফুজা ও বানীয়ারা সুদের ব্যবসা করেন। মাহফুজার কাছ থেকে শতকরা ১০ টাকা হারে সুদে টাকা নিয়ে বাণীয়ারা ২০ টাকা হারে অন্যজনের কাছে টাকা লগ্নি করেন। কোন টাকা অনাদায় থাকলে বানীয়ারার স্বামী মকবুল, মাহফুজার স্বামী ওষুধ ব্যবসায়ী মণ্টু ও তাঁর ছেলে বিজয় স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী নিয়ে হামলা চালান। তাঁদেরকে বাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করেও শান্তি নেই। ক্যাডার ও পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন সুদ ব্যবসায়ীরা। গহনা, বাড়িসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। শুধু এরাই নন, এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছেন, যারা ওই সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার নিপীড়ন শোষণ নীরবে সহ্য করছেন। শিল্পী, শরিফা ও ঊষার মতো অনেকেই বাড়ি-ঘর বিক্রি করে পথে পথে ঘুরছেন। এ ব্যাপারে মণ্টুর ছেলে মিঠু বলেন, ‘শরিফা আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতেন। হঠাৎ একটি অনুষ্ঠানে যাবেন এমন মিথ্যা বলে আমার স্ত্রী ও মায়ের সাথে স্বর্ণের দুটি গহনা নিয়ে যায়। পরে সে আর ফেরৎ দেয়নি। বরং আজকাল করে ফেরত না দিলে আমরা গহনার জন্য অভিযোগ করি, সুদের টাকার জন্য নয়।’ এবিষয়ে মণ্টুর ছেলে বিজয় জানান, স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন শিল্পীয়ারা। তাঁর কাছ থেকে নেওয়া অনেক প্রমাণ রয়েছে। পরে আমাদের টাকা পরিশোধ করেনি। উপরন্ত সে বছরখানেক আগে ঢাকায় পালিয়ে ছিলেন। কয়েকমাস আগে তিনি বাড়িতে এসেছেন, এমন তথ্য পাওয়ার পর গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। তার আত্মীয়-স্বজনরাও টাকার বিষয়ে জানেন। তবে বিনা স্বার্থে কেউ কাউকে টাকা ধার দেয় না, এটা আপনারা ভালো করেই জানেন। আমিও স্বার্থ বা লাভের জন্য দিয়েছিলাম এমন কথা স্বীকার করে বলেন, তারা আমাকে যে ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে তার প্রমাণ নেই। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রহমান জানান, সুদ কারবারিদের কোনো অভিযোগ আমরা গ্রহণ করি না। কিন্তু মানুষ যখন অভিযোগ করে, তখন তো বলে ধার কার্যের টাকা। আমরা বুঝতে পারলে কোনো সুদের টাকা আদায়ের জন্য অভিযোগ নিই না। তবে হয়রানির যে বিষয়টি এসেছে, আমি অফিসারদের সতর্ক করে দেব।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)