দেশে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮১৯

আপলোড তারিখঃ 2021-04-12 ইং
দেশে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮১৯ ছবির ক্যাপশন:
নতুন করে চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন করোনা আক্রান্ত সমীকরণ প্রতিবেদক: সারা দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮১৯ জন। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৭৬ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৬ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৯ জন। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯০ জন। গত শনিবার করোনায় ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৫ হাজার ৩৪৩ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৫৭ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৪ জন, দামুড়হুদায় ৩১৪ জন ও জীবননগরে ১৮৯ জন। গতকাল রোববার রাত আটটায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত সাতজনের মধ্যে সদর উপজেলার ৬ জন ও আলমডাঙ্গার ১ জন রয়েছে। এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন একজন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৫০ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৩ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন। জানা যায়, গত শনিবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ পরীক্ষার জন্য ৪২টি নমুনা প্রেরণ করে। উক্ত ৪২টি নমুনা ও পূর্বের প্রেরিত পেন্ডিং নমুনার মধ্যে গতকাল ৪১টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এর মধ্যে ৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ৩৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোনো নমুনা সদর উপজেলা থেকে ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩০টি, আলমডাঙ্গার ৩টি, দামুড়হুদার ৫টি। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৯১৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৬৮৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮০৪টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৪৪১টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১১৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রত্যেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল জেলা থেকে আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১০২জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৩জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত হয়ে রিনা বেগম (৪৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এনিয়ে এবছর করোনা আক্রান্ত হয়ে ঝিনাইদহে মা মেয়েসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রিনা বেগম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নের যাদুড়িয়া গ্রামের নায়েব আলীর স্ত্রী। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রিনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের উয়োলো জোনে ভর্তি করা হয়। ৬ এপ্রিল তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মৃত্যু হয়। এদিকে, গতকাল রোববার ঝিনাইদহে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৮ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ২৩৭২ জন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)