রোজার আগেই ঈদের আমেজ, মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়

আপলোড তারিখঃ 2021-04-11 ইং
রোজার আগেই ঈদের আমেজ, মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় ছবির ক্যাপশন:
মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি; একে-অপরকে দুষছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা : করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা! সমীকরণ প্রতিবেদক: গতকাল ছিল করোনার সংক্রমণ রোধে এক সপ্তাহের ‘লকডাউনের’ ষষ্ঠ দিন। একই সঙ্গে দোকানপাট ও মার্কেট খোলার ছিল দ্বিতীয় দিন। শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও চুয়াডাঙ্গা শহরের মার্কেটগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদের আমেজে কেনাবেচায় লিপ্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, প্রিন্স প্লাজা ও বড় বাজার পুরাতন গলি ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে ভেবে মানুষ হুমড়ি খেয়ে মার্কেটে নেমেছেন। তাই তারা স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে কেনাকাটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবার বিক্রেতারাও অধিক লাভের আশায় তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার দোষ ক্রেতাদের ওপর চাপাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর ক্রেতারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, মার্কেটের এ অবস্থা করোনা সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন ব্যক্তিরা। গতকালও নিউমার্কেট এলাকায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতারা কেনাবেচায় এতটাই মশগুল যে কারোই স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা মনে থাকেনি। কেউ মাস্ক পরলেও সেগুলো মুখের নিচে থুতনিতে অথবা কানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় মাস্ক পরে থাকলে গরম লাগে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যার কারণে নাক-মুখ থেকে মাস্ক কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রাখেন। এই মার্কেটগুলোর দোকানে প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করারও কোনো ব্যবস্থা চোখে পাড়েনি। কিছু দোকানে স্যাভলন মিশ্রিত পানি দেওয়া হলেও বেশিরভাগ দোকানে সেটাও করা হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটে দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘আসলে করোনার মধ্যে বের হওয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু কী করব, শোনা যাচ্ছে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোরভাবে লকডাউন দেওয়া হবে। সে সময় তো আর মার্কেট খোলা থাকবে না। তাই মেয়েদের কিছু কাপড় ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বের হতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, মার্কেটগুলোতে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজেরাই স্যানিটাইজার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। অপর ক্রেতা সাদ আলম জানান, তিনিও একজন ব্যবসায়ী। ১৪ তারিখ লকডাউন ঘোষণা হলে বাড়িতেই থাকবেন। ঈদের আগে পরিস্থিতি ভালো নাও হতে পারে, তাই মার্কেট বন্ধ হওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে বের হয়েছেন। ``নিউ মার্কেটের ‘বোরকা বাজার’-এর মালিক বলেন, গত বছর থেকেই তাঁদের কেনাবেচা প্রায় বন্ধ রয়েছে। সাধারণত ঈদুল ফিতরের সময়ই তাঁদের বেচাবিক্রি ভালো হয়। এ বছরও করোনার যে পরিস্থিতি, তাতে ঈদে বিক্রি করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে আবেদন করে দোকান খোলার অনুমোদন নিয়েছি। এক দিন যদি ঠিকমতো বিক্রি করতে পারি, তাহলে কিছুটা হলেও এগোতে পারব।’ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যতদূর সম্ভব চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মানার। তবে এক সাথে যখন অনেক ক্রেতা ঢুকে পড়ে, তখন কিছুটা বিঘ্নিত হয়।’ যদিও তাঁর দোকানে সরকার নির্দেশনা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তাঁর নিজের ও দোকানের কর্মচারীদেরও কারো মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। মার্কেটের সামনে হাত ধোয়া স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা নিয়ে অপর এক বিক্রেতা বলেন, গত বছর হাত ধোয়ার জন্য দোকানগুলোর সামনে সাবান-পানি রাখা হয়েছিল। কিন্তু ক্রেতারা সেগুলো ব্যবহার করতেন না। যার কারণে অযত্নে সেই ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর এখনো হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে করা হয়নি। তবে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, হাত ধোয়া কিংবা স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আর মার্কেটের ভেতরেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মার্কেট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতাও চোখে পড়েনি। এসব মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ডরা বলেন, শুক্রবার মার্কেট খুললেও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা কিংবা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা মার্কেট থেকে করা হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)