ছবির ক্যাপশন:
নতুন করে চুয়াডাঙ্গায় ৯ ও মেহেরপুরে ১০ জন করোনা আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহতি রয়েছে। করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৩ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৭ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৬৬১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন। এর আগে গত শুক্রবার করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ৭ হাজার ৪৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র । মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে।
কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৮ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৫১ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৩ জন, দামুড়হুদায় ৩১৫ জন ও জীবননগরে ১৮৯ জন। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৮জন ও দামুড়হুদার ১জন রয়েছে। এদিকে, গতকাল জেলায় নতুন চারজন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৩৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৪৯ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৩ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন।
জানা যায়, গত শুক্রবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা প্রেরণ করেনি। তবে পূর্বের প্রেরিত পেন্ডিং নমুনার মধ্যে গতকাল ১৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ৮টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সদর উপজেলা থেকে ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৮৭৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৬৪৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭৯৮টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৪০৭টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১১ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৯৬জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৪জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল শনিবার জেলায় নতুন করে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন শহর ও গ্রামে সমানতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে করে সামাজিক ট্রান্সমিশনেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে যে নমুনা পাঠানো হয়েছিল তারমধ্যে ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। এদের মধ্যে ১০ জনের রিপোর্ট পজেটিভ। আক্রান্ত্রদের মধ্যে সদর উপজেলার ৪ জন, গাংনী উপজেলার ২ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৪ জন রয়েছে।
গতকাল স্বাস্থ্য বিভাগের শেষতথ্য মতে, মেহেরপুর জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩৬ জন, গাংনী উপজেলার ১৬ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৭ জন।
