ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম শুরু
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন বিভাগে মোট আরও ৯৬ হাজার ১২৭ জন টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৪ হাজার ৮০৪ জন ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৩ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে দেশে মোট টিকাগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩০ জন। তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ রিপোর্ট করেছেন মোট ৯৪১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে আরও জানানো হয়, আজ প্রথম ডোজের করোনার টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে নয় হাজার ২৭৮ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ৫২৬ জন নারী। আর দ্বিতীয় ডোজের টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৬০ হাজার ৫২৮ ও নারী ২০ হাজার ৭৯৫ জন। তাদের মধ্যে টিকা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ রিপোর্ট করেছেন দুজন। এদিকে, সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে একযোগে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান কার্যক্রম।
চুয়াডাঙ্গা:
সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান প্রথমে দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও গতকাল সকালে দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান, দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন ও বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক। জেলায় প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের মধ্যে গতকাল মোট ৬৯৮ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। একই দিনে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন আরও ১০৭ জন।
জানা যায়, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হলো। গত বুধবার সকাল ১০টায় টিকাবাহী গাড়ি চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এইদিন চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্য বরাদ্দকৃত দ্বিতীয় ডোজের প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৯শ ভায়েল বা ৩৯ হাজার টিকা বুঝে নেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের করোনা টিকা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে বেক্সিমকো ওষুধ কারখানা থেকে টিকাবাহী গাড়িযোগ বুধবার সকাল ৮টায় কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে টিকাবাহী গাড়িটি যাত্রা করে সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিনে আসে। এসময় সিভিল সার্জন উক্ত টিকা বুঝে নেন। সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ওইদিনই টিকাগুলো জেলার অন্যান্য উপজেলা টিকাকেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ও করোনা টিকাদান কমিটির আহ্বায়ক ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘জেলায় প্রথম ধাপের করোনার টিকা পৌঁছানোর পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৬১৯ জন প্রথম ধাপের টিকা গ্রহণ করে। ৭ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজের টিকা সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জেলায় মোট ৬৯৮ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে কারও শরীরে পার্শ্বপতিক্রিয়া দেখা যায়নি। টিকা নিয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছে এমন খবরও পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে খুব সুন্দরভাবে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা থাকলেও কয়েকজন টিকা নিতে আসেননি। পরবর্তীতে তাঁদেরকে এই দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হবে। আগামী শনিবার থেকে আবার এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
মেহেরপুর:
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মেহেরপুরে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়। দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের প্রথমদিনে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পিপি পল্লব ভট্টাচার্য, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কুমার দাস প্রমুখ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, প্রথম পর্যায়ে ১৯ হাজার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে ১২ হাজার ভ্যাকসিন ইতোমধ্যেই মেহেরপুর পৌঁছেছে। যারা প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাঁদেরকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে যারা নতুন রেজিস্ট্রেশন করছে তাঁদেরকে প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলা সদর হাসপাতালসহ ৬ উপজেলার নির্ধারিত টিকা কেন্দ্রগুলোতে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। সকালে জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম ডোজের প্রদানের শুরুতে যারা টিকা গ্রহণ করেছিলেন, তারা টিকা নিচ্ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও যারা প্রথম ডোজ টিকা নেননি, তাঁরা টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছেন।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত বুধবার ঝিনাইদহে ৪ হাজার ৮’শ ভায়েল টিকা এসেছে। প্রতি ভায়েলে ১০ জন করে সর্বমোট ৪৮ হাজার জন টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। জেলার অন্যান্য উপজেলায় টিকা পৌঁছানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একযোগে টিকা প্রদান শুরু করা হয়েছে। যতদিন টিকা থাকতে ততদিন আমরা টিকা প্রদান কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তিনি বলেন, প্রথম ডোজ নেওয়ার ২ মাস পর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে হবে। শুধু টিকা নিলেই হবে না স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হবে।
