ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় আরও একজন কোভিডে আক্রান্ত : সংক্রমণ ও শনাক্তের
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ৬৮৩ জন রোগীর শনাক্ত হয়েছে। একই সময় করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৫৮ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ২১৩ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৫৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। ওই সময়ে, বিশেষ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী শনাক্ত হতো। বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে গত পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও একজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৩ জনে। গতকাল শনিবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি সদর উপজেলার বাসিন্দা। বয়স ৫৫ বছর। গতকাল জেলার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে নতুন ১ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬২২ জন।
জানা যায়, গত শুক্রবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জেলা কোন নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেনি। তবে গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৪ নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁঁছায়। এর মধ্যে ১ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৪৩টি, আলমডাঙ্গা থেকে ৪টি, দামুড়হুদা থেকে ৯টি ও জীবননগর থেকে ৩টি নমুনাসহ ৫৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৬৬১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৪০২টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭৪৩টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ২১৬টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৪জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
