চুয়াডাঙ্গায় এক শিশুসহ করোনায় দেশে ৫০ জনের মৃত্যু

আপলোড তারিখঃ 2021-04-03 ইং
চুয়াডাঙ্গায় এক শিশুসহ করোনায় দেশে ৫০ জনের মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
গত ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুরে ৫ জনসহ দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৬৮৩০ জন রোগী শনাক্ত সমীকরণ প্রতিবেদক: দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক রোগীর করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আজ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত ৬ হাজার ৮৩০ জন রোগীর শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৫০ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এত বেশিসংখ্যক রোগী আর শনাক্ত হননি। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ৩৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। ওই সময়ে, বিশেষ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী শনাক্ত হতো। বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ছয় দিন ধরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী (প্রতিদিন) শনাক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরেকটি চূড়ার (পিক) দিকে যাচ্ছে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে গত পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সাদিকুল ইসলাম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলায় এটায় করোনায় প্রথম কোন শিশুর মৃত্যু। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুাটর মৃত্যু হয়। নিহত শিশু দামুড়হুদা উপজেলার দশমীপাড়ার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। এনিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৩ জনে। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ১৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪২৮ জনে। গতকাল রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৫ জন, আলমডাঙ্গার ১ জন, দামুড়হুদার ৫ জন ও জীবননগরের ৩ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮জন পুরুষ ও ৬জন নারী। আক্রান্তদের বয়স ১৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এদিকে, করোনা সংক্রমণ থেকে থেকে মানুষকে সচেতন করে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন বলছেন, করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে শুধু মাস্কের ব্যবহারই এককভাবে করোনাসংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। করেনা মহামারি থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত হাত ধোয়া, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করলে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। নিহত শিশু সাদিকুল ইসলামের পিতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কিডনিজনিত সমস্যার কারণে সাদিকুল ইসলাম ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। একপর্যায়ে তার অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ২৭ মার্চ (শনিবার) সাদিকুলের নমুনা করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে এসে সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করি।’ জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জেলা থেকে ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। গতকাল উক্ত নমুনার মধ্যে ৩১ নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁঁছায়। এর মধ্যে ১৪ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ১৭টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করেনি। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৬০২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৩৯৮টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭৪২টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ২১৩টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৪জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১৩জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এ পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান জানান, গত ২৫ মার্চ দুপুরে জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশু সাদিকুল। ২৭ মার্চ তার নমানায় করোনা শনাক্ত হয়। পরে ৩০ মার্চ সাদিকুলের পিতা ঢাকা থেকে শিশুটিকে এনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটিকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিবীর পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। করোনায় মানুষকে সচেতন করে তিনি আরও বলেন, ‘শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।’ মেহেরপুর: মেহেরপুরে নতুন আরও ৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ জন, গাংনী উপজেলার ৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলায় ১ জন রয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বর্তমানে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায়িছে ৪১ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, গাংনী উপজেলার ১৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ২ জন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)