ছবির ক্যাপশন:
সারা দেশে করোনায় ৫৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত প্রায় সাড়ে ৬ হাজার
সমীকরণ প্রতিবেদক:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনায় সংক্রমিত ৬ হাজার ৪৬৯ জন রোগীর শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। আর ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৫৯ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এত বেশিসংখ্যক রোগী আর শনাক্ত হননি। গত বুধবার দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ৩৫৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন গতকাল। তার আগের দিন মঙ্গলবার ৫ হাজার ৪২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৪ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ১০৫ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ১৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। ওই সময়ে, বিশেষ করে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী শনাক্ত হতো। বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ছয় দিন ধরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী (প্রতিদিন) শনাক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরেকটি চূড়ার (পিক) দিকে যাচ্ছে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।
দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে গত পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় দিনদিন করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল জেলায় নতুন করে ১৪ জনের শরীরে করোনা শন্তাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ জন। গতকাল নতুন আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনই সদর উপজেলার বাসিন্দা। অন্য দুজনের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলায়। আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৬৬ বছর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। গত বুধবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার। নিহত আনোয়ারা বেগম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ খেজুরা গ্রামের আশরাফুল জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী।
জানা যায়, গত বুধবার করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরিত ৪৩টি নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুুনাসহ গতকাল ৪৬টি নমুনার ফফাফল প্রকাশ করে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। এর মধ্যে ১৪ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকি ৩২টি নমুনার পরাফল নেহেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য সদর উপজেলা থেকে ৩৪টি, দামুড়হুদা থেকে ৭টি ও দামুড়হুদা থেকে ১টি নমুনাসহ সংগৃহিত ৪২টি নমুনা পরীক্ষাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৬০২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৩৬৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৭২৮টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ১৯৬টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৫৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন ও জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্তদের মধ্যে ৪৩ জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ১০ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
