ছবির ক্যাপশন:
মুজিবনগরে গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশের অভিযান, ককটেল ও ‘জিহাদি’ বই উদ্ধার
প্রতিবেদক, মুজিবনগর:
মুজিবনগরে জেলা জামায়াতের আমিরসহ ১৩ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে জামায়াতের ৫ জন নারী রোকন রয়েছেন। আটকের সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি ককটেল, বেশ কিছু ‘জিহাদি’ বই, ৮টি মোবাইল সেট ও ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের ফজু গাজীর বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক জরিজিস হুসাইন, তালিমুল কোরআন বিভাগের পরিচালক মশিউর রহমান, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির খান জাহান আলী, সেক্রেটারি খাইরুল বাশার, দাওয়াত বিভাগের সেক্রেটারি ফিরাতুল ইসলাম নাইম, জামায়াতের আদর্শ শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন ও জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি ফজলুল হক গাজি।
আটককৃত নারীরা হলেন- দারিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের রোকন সেলিনা আক্তার, মোনাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন মমতাজ বেগম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন সাহেরা খাতুন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন রোকেয়া খাতুন ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন উম্মে হানি। সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক গোপন সভা করার সময় তাঁদেরকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাশেম জানান, উপজেলা জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি ফজলুল হক গাজীর বাড়িতে গোপন সভা চলছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় মুজিবনগর থানা পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে বাড়ির মালিকসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে জামায়াতের ৫ জন নারী কর্মীও রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি ককটেল, বিপুল সংখ্যক ‘জিহাদি’ বই ও পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ দেখানো হয়েছে। আটক ১৩ নেতা-কর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি আব্দুল হাশেম।
এদিকে, আটক জামায়াত নেতা-কর্মীদের সন্ধ্যার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর আনা হয়। পরে মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক বেগম রাফিয়া সুলতানা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাতে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে তাঁদেরকে কারাগারে নেওয়া হয়।
