ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা কলেজপাড়া থেকে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই শিশুর পিতা। এদিকে, গতকাল রাত ১০টার দিকে ওই শিশুর পিতার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
জানা গেছে, গতকাল আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার ডেন্টাল চিকিৎসক কাজী সজিবের শিশুপুত্র কাজী আব্দুল আজিজকে (৪) বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির সামনে খেলা করছিল। এসময় দুজন অপরিচিত ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে এসে শিশুটিকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যাক্ষদর্শী কেউ কেউ বলছেন, তারা মোটরসাইকেলযোগে শিশুটিকে নিয়ে ডা. গোলাম মোস্তফার বাড়ির পিছনের রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেছে। আজিজ হারিয়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাজী সজিব ও তাঁর পরিবার শিশু আজিজকে বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তারা আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং হাউসপুর রাস্তাসহ আলমডাঙ্গা বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশির ভাগ সিসি ক্যামেরা অকেজো বলে জানা গেছে।
শিশুটির পিতা কাজি সজিব প্রত্যাক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে বাড়ির সামনে খেলা খেলছিল আমার ছেলে। এসময় একটি মোটরসাইকেলযোগে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারী দুজন এসে কৌশলে আমার ছেলেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা হলে আমার ছেলে বাড়ি না ফিরলে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতেই আমি আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।’ তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী। এবিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে নানাভাবে হুমকি-ধামকিও দেয় তারা।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বুধবার বিকেলে একটি শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অপহরণকারীদের ধরতে মাঠে কাজ শুরু করেছি। আমরা জানতে পেরেছি রাতে ওই শিশুর বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এদিকে, শিশু আজিজকে না পেয়ে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে, তাঁর মা ঘনঘন মুর্ছা যাচ্ছেন।
