ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময়
দর্শনা অফিস/ প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে ট্রাক ও করিমনের মুখোমুখী সংঘর্ষে পিতা-পুত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের লোকনাথপুর তালবাগান পুলিশ বক্সের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই করিমন চালক আশানুর হোসেনের ছেলে আজম হোসেনের (১২) মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে চালক আশানুর হোসেনের (৩৫) মৃত্যু হয়। নিহত করিমন চালক আশানুর হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের ডুগডুগী বাজার পাড়ার মৃত আমির হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন নিহত আজমের সহপাঠী ডুগডুগি মসজিদ পাড়ার জামাত আলীর ছেলে জীবন (১২), ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মালমারিয়া গ্রামের মজহারুল ইসলামের ছেলে ট্রাকচালক ইয়াসিন শেখ (৪০) ও ট্রাক চালকের সহকারী একই উপজেলার জিন্নাহনগর ঝিটকিপাড়া গ্রামের নওশের আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩০)। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান।
জানা যায়, গতকাল সকালে করিমন চালক আশানুর হোসেন তাঁর করিমনযোগে দামুড়হুদা বাজার থেকে ১০ বাস্তা সিমেন্ট নিয়ে দর্শনা রেল ইয়ার্ড আশ্রয় কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় কাজে সহযোগিতার জন্য নিজের ছেলে শিশু আজমকে সঙ্গে নেয় আশানুর হোসেন। আজমের সঙ্গে তাঁর সহপাঠী জীবনও করিমনে ওঠে। করিমনযোগে দর্শনা যাওয়ার পথের মধ্যে দর্শনা লোকনাথপুর পুলিশ বক্সের সামনে পৌঁছালে ট্রাক চালক ইয়াসিন শেখ দ্রতগতিতে অন্য একটি যানবাহনকে অতিক্রম করার সময় আশানুর হোসেনের করিমনকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই শিশু আজম হোসেনের মৃত্যু হয় ও করিমন চালক আমানুর হোসেন ও শিশু জীবন গুরুতর জখম হয়। করিমনকে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ বক্সের সঙ্গে পুনরায় ধাক্কা দিলে চালক ইয়াসিন শেখ ও সহকারী মনিরুল ইসলাম আহত হন।
একজন প্রত্যাক্ষদর্শী জানান, সকালে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে লোকনাথপুর তালবাগান পুলিশ বক্সের নিকট পৌঁছায়। ঠিক সেসময় একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে সিমেন্টভর্তি করিমনকে সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে। করিমনে থাকা একটি শিশু ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে চিৎলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে করিমন চালক আশানুরের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এবিষয়ে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাফর শেখ জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক শিশুর মৃত্যু হয় ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটির পিতার মৃত্যু হয়। নিহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লাশ ঘরে রাখা হয় ও আহত তিনজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়।
দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক জানান, লোকনাথপুর তালবাগান পুলিশ বক্সের সামনে একটি ট্রাক (ঝিনাইদহ-ট-১১-১৮৭৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টভর্তি একটি করিমনকে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় করিমন চালক ও করিমনের আরোহী তাঁর শিশু ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ও নিহত পিতা-পুত্রের লাশ পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও তাঁদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় নিহত দুজনের লাশের দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
