ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে মাদক হিসেবে, ঝুঁকিতে যুবকরা

আপলোড তারিখঃ 2021-03-24 ইং
ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে মাদক হিসেবে, ঝুঁকিতে যুবকরা ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে চলছে অবৈধ ওষুধের রমরমা ব্যবসা, নেই মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিবেদক, মেহেরপুর: মেহেরপুরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেন্ট্রাডল, টাপেন্টা, সিন্টাডল, ওমরফোন, লেপেনট্রাসহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ। আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের পরামর্শ বা অনুমতিপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকলেও ওষুধ ব্যবসায়ীরা এ আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবার পরিবর্তে ট্যাপেন্টা, সিন্টাডল অবাধে বিক্রি করে যাচ্ছে ফার্মেসিগুলো। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ সর্বশেষ ওমরফোন পেন্টাডল, টাপেন্টা ট্যাবলেট এখন মাদক হিসেবে মেহেরপুরের মাদকসেবীদের কাছে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। সরকার এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করলেও মেহেরপুরের শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব ওষুধ অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার, লর্ডমার্কেট, হাসপাতাল গেটসহ কাথুলী সড়কে ১৫-২০ টাকা মূল্যের এসব ব্যথানাশক ওষুধ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন ফার্মেসি মালিক। আর প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে কৌশল অবলম্বন করে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় শুধুমাত্র পরিচিত মাদকসেবীদের কাছে এসব ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এসব ব্যথানাশক ওষুধ মারাত্মক ব্যাথার প্রতিরোধক হিসেবে খুবই ভালে কাজ করে। হার্ট অ্যাটাক ও যক্ষার মতো মারাত্মক ব্যাধির ব্যথা নিমিষে ভুলিয়ে দেয় এ ধরনের ওষুধ।’ মেহেরপুর তাহের ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম আরাফাত আকাশ বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাক ক্যনসারসহ মারাত্মক ব্যথার প্রতিশোধক হিসেবে এসব ওষুধ খুব ভালো কাজ করে, কিন্তু এসব ওষুধ অতিরিক্ত সেবন করলে এগুলোর প্রতি এডিক্টেড হয়ে পড়বে।’ এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেহেরপুর ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘সরকার এসব ওষুধ বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করলেও আমাদের ক্রয়কৃত ওষুধ-কোম্পানি ফেরত না নেওয়াই কেউ কেউ ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করছে।’ মেহেরপুর জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টাপেন্টা, সিনটা, পেন্টাডল, লোপেন্টাসহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ ইয়াবা ও হেরোইনের মতো সেবন করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনের থেকেও তীব্র এবং ভয়ঙ্কর। দাম কম ও সহজলভ্য হাওয়াই মাদকের উপাদান হিসাবে এর প্রভাব বাড়ছে।’ মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহদারা খান জানান, ‘মাদকের বিষয়ে আমরা সবসময় জিরো টলারেন্সে রয়েছি। প্রতিনিয়ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ উল্লেখ্য, গতবছর ৮ই জুলাই মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন তফসিলভুক্ত করা হয়েছে ব্যথানাশক ট্যাপেন্টা জাতীয় ওষুধ মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা একে খ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসিআই-এর লোপেন্টা, স্কয়ারের পেন্টাডল, অপসোনিনের টাপেন্টাডল, এসকেএফ-এর ট্যাপেন্টা যেগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ‘খ’ ৬৫ ধারা মোতাবেক আইনে মামলা দায়ের করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)