৫ মাসে অনুন্নয়ন ব্যয় ২৫ উন্নয়ন ব্যয় ১২ শতাংশ

আপলোড তারিখঃ 2021-03-20 ইং
৫ মাসে অনুন্নয়ন ব্যয় ২৫ উন্নয়ন ব্যয় ১২ শতাংশ ছবির ক্যাপশন:
বিপুল রাজস্ব ঘাটতিতে কঠিন হয়ে পড়ছে বাজেট বাস্তবায়ন সমীকরণ প্রতিবেদন: রাজস্ব আহরণে বিপুল ঘাটতির জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠছে। আগের বছরের মূল বাজেটের তুলনায় অনুন্নয়ন ব্যয়ে ১২.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবে রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৮ শতাংশ। সে তুলনায় ব্যয় করতে না পারায় চলতি অর্থবছরেও বাজেটের বড় অংশ অবাস্তবায়িত থেকে যেতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অনুন্নয়ন খাতে মূল বরাদ্দের মাত্র ২৫.৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের অবস্থা আরো বেশি নৈরাশ্যজনক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দের তুলনায় বাস্তব উন্নয়নব্যয় কম হওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ অর্থবছরের ৫ মাস শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে সারা বছরের উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ১২.৪ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রানুসারে, বাজেটের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে এই দুরবস্থার মূল কারণ হলো রাজস্ব আহরণের নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতি। অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে সার্বিক রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৮.৭ শতাংশ। অথচ গত বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম রাজস্ব আদায়ের কারণে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৪৩.৭ শতাংশ। এতে দেখা যায়, সারা বছর রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ মাসে তার মাত্র ২৮.৯ শতাংশ আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের এই করুণ অবস্থার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ও জিডিপির অনুপাত ১৩.৩৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের বিপরীতে বাস্তবে দাঁড়ায় ৮.৬৮ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই অনুপাত ১১.৯৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাজস্ব আদায়ের যে অবস্থা তাতে জিডিপি রাজস্ব অনুপাত আরো নিচে নেমে যেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বিগত অর্থবছরের ৫ মাস শেষে রাজস্ব আহরণ ছিল জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। এবার ৫ মাস শেষে তা নেমে এসেছে ৩.১০ শতাংশে। করোনাভাইরাসের কারণে রাজস্ব আহরণের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ধারণা করা হয়েছিল করোনার উন্নতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। বাস্তবে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত অর্থবছরের ৭ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪.৪ শতাংশ। ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ ৭ মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি সময়ে রাজস্ব আদায় যে লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে থাকবে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। রাজস্ব আয়ের দুর্বলতার কারণে বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নও বাড়ছে। নভেম্বর ’২০ পর্যন্ত ৫ মাসে ৭ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা ঘাটতি অর্থায়ন হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। সরকারের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজস্ব আয় ও উন্নয়ন সহায়তা প্রাপ্তির মধ্যকার ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ঋণ গ্রহণ করে থাকে। ১ জুলাই ২০২০ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নেয়া ঋণ ২ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা বেড়ে ৫০ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বর ’১৯ এর তুলনায় ডিসেম্বর ’২০ এ সরকারের নেয়া ঋণ বেড়েছে ২১.৯২ শতাংশ যেটি আগের অর্থবছরের একই সময় বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৯.৯২ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে ঋণ বৃদ্ধি পায় ১.২৯ শতাংশ যেটি আগের বছর বেড়েছিল ২৫.০৯ শতাংশ। সঞ্চয়পত্র খাতের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ কম নিতে হচ্ছে। তবে এতে বাজেটে বাড়তি সুদের বোঝা চাপছে। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের রাজস্ব আয় এবং ব্যয়ের ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র খাত থেকে যে ঋণ নিতে হয় তাতে ব্যাংক সূত্রের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদ অনেক বেশি। আর আমানতের ওপর সুদ হ্রাস করার কারণে জনগণ সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। এতে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে তহবিল সঙ্কটে পড়তে পারে।অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির আকর্ষণীয় চিত্র তুলে ধরলেও বাজেট বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এখন এক কথায় একেবারে নৈরাশ্যজনক। এ অবস্থা চললে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে প্রবৃদ্ধির কাঠামো ধরে রাখা কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)