রাতে চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট, বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপলোড তারিখঃ 2021-03-19 ইং
রাতে চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট, বাড়ছে দুর্ঘটনা ছবির ক্যাপশন:
কালীগঞ্জে তিন চাকার যানবাহন এখন অদক্ষ ও শিশু চালকদের হাতে প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম্য সড়ক থেকে শুরু করে উপজেলার মধ্যকার সড়ক-মহাসড়ক এখন ইজিবাইকের দখলে। শিশু ও অদক্ষ চালকরা কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে উপজেলার সড়কে যেখানে সেখানে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। তার ওপর এসব যানবাহনে লাগানো হয় চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট। চলাচলরত অসংখ্য ইজিবাইকের কারণে কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের মেইন বাসস্ট্যান্ড, মধুগঞ্জ বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের সামনে, নলডাঙ্গা বাজার, কোলা বাজার, নিমতলা বাসস্ট্যান্ড, কোটচাঁদপুর রোড, দুলাল মুন্দিয়া বাজার, বারোবাজার, চাপরাইল বাজার, গাজীর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও চালকদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ার হর-হামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা ও যানজট। ভুক্তভোগীরা জানান, শিক্ষার্থীরা সকালে স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় তারা প্রতিনিয়ত যানজটের শিকার হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, উপজেলায় চলাচলরত ইজিবাইক চালকরা কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে সড়কে ইচ্ছামতো ইজিবাইক ঘুরিয়ে ফেলতে যায়, আবার রাস্তার ভাঙা-চোরা অংশ পরিহার করে ভালো অংশ দিয়ে যেতে চায়। ফলে তারা ঘন ঘন রাস্তায় এপাশ-ওপাশ করে পথ চলে। এমন অবস্থায় মোটরসাইকেলসহ দ্রুতগতির পরিবহনের পেছন থেকে আগে উঠতে গেলে ইজিবাইকে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ইজিবাইক চালকদের খামখেয়ালিতে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় সৃষ্টি যানজট এখন প্রতিদিনের চিত্র। সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ, ইজিবাইক চালকেরা উপজেলার মধ্য যেখানে সেখানে তাদের বাইক পার্কিং করার কারণে সৃষ্ট যানজটে ২/৩ মিনিটের রাস্তায় কখনও কখনও ১০-১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৪ সালের দিকে কালীগঞ্জ উপজেলায় অল্প কিছু সংখ্যক ইজিবাইক দেখা গেলেও বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, যারা ইজিবাইক চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ১২/১৩ বছরের কম বয়সের কিশোরও রয়েছে। এখন প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক সড়কে নামানো হচ্ছে। এসব ইজিবাইক এলাকার যেকোনো সড়কে চালানোর কোনো অনুমতি না থাকলেও যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দ্রুতগতিতে যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে যাত্রী বহন করছে। এসব ইজিবাইক চালকদের মধ্যে কেউ মাঠে কৃষক, শ্রমিক অথবা আগে রিকশা, ভ্যান চালাতেন। আবার কেউ কেউ বয়সে কিশোর। এদের শতকরা ৮০ জন চালকই জানেন না কীভাবে রাস্তায় ইজিবাইক চালাতে হয়। তারপরও তারা নিয়মিত সড়ক-মহাসড়ক ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের সড়কে ৮/৯ জন করে যাত্রী নিয়ে দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বর্তমানে এসব যানবাহনে চালকরা লাগাচ্ছেন চোখ ঝলসানে এলইডি লাইট। রাত্রে যখন এসব যানবাহন এলইডি লাইট জ্বালিয়ে দ্রুত গতিতে চলাচল করে, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পথচারী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল চালকরা সামনে কিছুই দেখতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ইজিবাইক চালক খায়রুল জানান, তিনি ৪-৫ বছর ধরে ইজিবাইক চালাচ্ছেন। এটা চালিয়ে ৫ সদস্যর সংসারে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে হারে প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক রাস্তায় নামছে তাতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তার অভিযোগ, নতুন ইজিবাইক চালকরা আইনকানুন মানে না। কে কত টাকার ভাড়া আয় করবে, তারা সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। এর কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শরিফুল, আরও বেশ কয়েকজন ইজিবাইক চালক বলেন, আগে ভালো পয়সা রোজগার হতো কিন্তু এখন ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোজগার কম হচ্ছে। তারা জানান, বর্তমানে উপজেলায় এমন অবস্থা যেন মানুষের চেয়ে ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। মামুন হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, উপজেলার ভেতরে চলাচলরত ইজিবাইক দেখলে মনে হয় এটা যেন ইজিবাইকের শহর। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, ইতোপূর্বে পৌর কর্তৃপক্ষ দুইবার মাইকিং করেছে যাতে অপ্রাপ্ত বয়স্করা মোটরসাইকেল-ইজিবাইক না চালায় এবং তাদের চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। ইজিবাইক চালাকদের নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর আইন অনুসারে মহাসড়ক, বাজার এলাকা, মেইন বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে যাতে অযথা ভিড় না করে, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলইডি লাইট অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)