ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মার্চ মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ হতে দেওয়া যাবে না। বাল্যবিবাহ পড়ালে কাজিকে শাস্তি দেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ পড়ানো কাজিকে শাস্তি দিলে বাল্যবিবাহ পড়ানো বন্ধ হবে। কোনোভাবেই বাল্যবিবাহ মেনে নেওয়া হবে না। বিবাহ হওয়ার পরও শাস্তি দেওয়ার আইন আছে, সেই অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। তাছাড়া, আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছি। কেউ যদি নারীর প্রতি সহিংসতা করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। মাদক বন্ধে অভিযানের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।
রাস্তার ওপর ইটভাটার মাটি জমে জমে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক ভাটা মালিককে নির্দেশনা দিতে হবে, রাস্তায় যেন মাটি না থাকে। গাড়ি মাটি বহনের সময়ও খেয়াল রাখতে হবে। আবার মাটি যদি নিচে পড়ে, তাহলে তা ভাটাগুলোকেই সরাতে হবে। কোনোভাবেই যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। করোনাভাইরাসের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, আবার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতি ভালো আছে। পুলিশ বিভাগ সর্বদা তৎপর। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এই জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রাখতে আমরা বদ্ধ পরিকর।
সভার শুরুতে গত সভার কার্যবিরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন। সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, দামুড়হুা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলগমীর হান্নান, জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. বেলাল হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ।
