ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
শাক-সবজির জেলা হিসেবে খ্যাত মেহেরপুর জেলায় মাছ চাষে অধিক লাভজনক হওয়ায় মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলাতে পুকুর কাটার হিড়িক পড়ে গেছে। ‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’ এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও মেহেরপুর জেলার তিন ফসলি কৃষি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুরে। এতে করে জেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।
আইনকানুনের কোনো রকম তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে তিন ফসলি জমিতে দিন-রাত বিরতিহীনভাবে পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকেরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাঁদের উর্বর ফসলি জমি।
অপর দিকে, রাস্তার উপর দিয়ে মাটি দূষণের ফলে একটু পানি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ দিয়েও কোনো রকম প্রতিকার না পাওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। খনন কাজে ব্যবহার করছে এস্কোভেটরি মেশিন (ভেকু), তারপরেও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। মেহেরপুর শহরের আশ-পাশেসহ জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে তিন ফসলী জমি খনন করে সেখানে পুকুর কাটা হচ্ছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে পুকুর কাটা হচ্ছে।
সরকারিভাবে তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটার উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও মেহেরপুরে এ আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না কেউ। পুকুর কেটে ট্রাক্টর দিয়ে এই সমস্ত মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। মেহেরপুর জেলায় অব্যহত গতিতে পুকুর কাটার ফলে মেহেরপুরের তিন ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হওয়া দরকার বলে অনেকেই মত পোষণ করেছেন।
