অস্তিত্ব রক্ষায় ইস্যু রাজনীতি

আপলোড তারিখঃ 2021-02-16 ইং
অস্তিত্ব রক্ষায় ইস্যু রাজনীতি ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: জন্মের পর থেকে এখনো কঠিন সময় পার করছে বিএনপি। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে অনেকগুলো মামলা। সম্প্রতি দুর্নীতি নিয়ে রায় হয়েছে, সাজা হয়েছে। কারাগারে ছিলেন, বর্তমানে শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের দাবি— তিনি বন্দি থেকে গৃহবন্দি রয়েছেন। তার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডনে। প্রযুক্তি সংযোগে লন্ডনে বসে দল চালাচ্ছেন। এমন কঠিন সময়ে দলকে সংগঠিত রাখার দায়িত্বে রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন তাকে নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। কেউ বলছে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে ফখরুলের দায় রয়েছে। খালেদা জিয়ার আটক থেকে জাতীয় নির্বাচনসহ ডজনে ডজনে ইস্যু গেলেও একটিকেও কাজে লাগাতে পারেনি ফখরুল। উপরের ইশারায় চুপ ছিলেন। সময়ের আলোকে কার্যত ভূমিকা পালন করেননি। বামপন্থি আদর্শের নেতা হিসেবে জাতীয়তাবাদী আদর্শ নিয়ে ফখরুল এখনো প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় রয়েছেন। দলে আস্থা সংকট ফখরুলের। এমন পরিস্থিতিতে দলের হাই কমান্ডের ওপর তৃণমূল নেতাদের চাপ আসছে। কর্মীরা একদিকে ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কর্মসূচি চাচ্ছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দলের ভূমিকা দেখাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। দল টিকেয়ে রাখতে তৃণমূলের ক্ষোভ বিস্ফোরণের আগেই দুই দাবি নিয়ে কাজ করছে। একদিকে পরিবারের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তাকে আধুনিক চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন দিয়ে তৃণমূলকে মাঠে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। এর মধ্যে ভোটকেও গুরুত্বে রেখেছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনেও তৃণমূলকে চাঙ্গা রাখতে ভোটের মাঠে আছে। দলটির হাইকমান্ড মনে করছেন এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির এখন অস্তিত্ব রক্ষাই চ্যালেঞ্জ। কর্মসূচিকেন্দ্রিক সরব থেকে টিকে থাকাকে কর্মনীতি হিসেবে নেয়া হয়েছে। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত শনিবার প্রেস ক্লাবে কর্মসূচির পর থেকে বিএনপিতে চাঙা ভাব তৈরি হয়েছে। তরুণ নেতা ইশরাক হোসেনের সাহসী ভূমিকা থেকে কর্মীরা কর্মসূচিতে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল ইস্যুতে সাধারণ মানুষসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেতাব প্রত্যাহার হলেও মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার; এ দুয়ের কী হবে? জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের চার ধরনের খেতাব প্রদান করে। এর মধ্যে জীবিতদের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব ছিলো বীর উত্তম। এ খেতাবে ভূষিত মাত্র ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার একজন ছিলেন জিয়াউর রহমান। এর প্রায় ৪৮ বছর পর শাজাহান খানের প্রস্তাবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৯ ফেব্রুয়ারি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা শুধু দলটির নেতাকর্মীরা নয় সাধারণ মানুষও ভালোভাবে নিচ্ছেন না। জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের এ সিদ্ধান্তে দেশে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তিনি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে গোটা জাতিকে উদ্দীপিত করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন। এসব অবদান কোনোভাবেই মুছে দেয়া যাবে না। সাময়িক ইস্যু নিয়ে হতাশ দেশের তরুণরা। আরিফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, আমরা আমজনতা অনেকেই এমন অসংখ্য কামড়াকামড়ি দেখতে দেখতে অসহ্য হয়ে যাচ্ছি। শুধু শুধুই কি ‘বাংলাদেশর রাজনীতি’কে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ ঘৃণার চোখে দেখে? অতীত নিয়ে এত টানা-হিঁচড়া না করে বর্তমানের এত এত নাগরিক সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর অধিক মনোযোগী হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করে। দয়া করে, দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে দেশের জন্য অধিক কল্যাণকর হয় এমন কিছুই করুন নতুবা অন্যদের করার সুযোগটি অন্তত দিন। সাকিবুর রহমান নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত আমাদের মতো তরুণরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘৃণা করে এবং রাজনীতি সম্পর্কে খুব খারাপ ধারণা পোষণ করে। এখানে এখন মানুষের জন্য রাজনীতি দৃশ্যমান নয়। চলমান আল-জাজিরা ইস্যুতেও সরব বিএনপি। ওই প্রতিবেদনের পর মাঠপর্যায়ের কর্মীরা হাই কমান্ডকে চাপ দেয়। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বড় আকারে ঘরে বাইরে আওয়ামী লীগকে সমালোচিত করেছে। এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক নানা আলোচনা হচ্ছে। গত ১২ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করে। আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের চিত্র প্রদর্শিত হয়। একপর্যায়ে দলটির তৃণমূলও বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর চাপ প্রয়োগ করে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য। গত সপ্তাহে বিএনপি আল-জাজিরার রিপোর্টকে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসঙ্ঘকে তদন্তেরও দাবি জানায়। জানাগেছে তৃণমূলের চাপের প্রেক্ষিতে বিএনপি এখন ইস্যুভিত্তিক বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র কাদের মির্জা। দুই ভাই ইস্যুতেও বিএনপি কথা বলেছে। ভোটের ইস্যু নিয়েও সরব আছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ইস্যুসহ মানুষের ভাষাকে উপলব্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে মাঠপর্যায়ের নেতাদের চাপে। এ নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মাফিয়া চক্রের তালিকা আমরা করছি। আমাদের কাছে সবই আছে। কোন পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কোথায় রিসোর্ট আছে, কোথায় আমোদ-প্রমোদ করে, কোথায় বসে কুকীর্তি করে সবকিছুর ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। কোন সরকারি কর্মকর্তা, কোন সচিব কোথায় বসে সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে রঙ্গমালা করে, তারা কবে কোথায় কী দুর্নীতি করেছে— সব দলিলপত্র আমাদের কাছে আছে। এটা যদি সিএস খতিয়ান হয়ে যায়, আরএস খতিয়ান হয়ে যায়। এসএ খতিয়ান ধরে তারপর ঘরে ঘরে ঢুকে বিচার করা হবে— ইনশাল্লাহ।’ আওয়ামী লীগের চৌদ্দগোষ্ঠীর মধ্যে হাজার পাওয়ারী লাইট জ্বালিয়েও একজন ‘বীর প্রতীক’ পাওয়া যাবে না। ‘কোন জায়গায় হাত দিয়েছেন বুঝতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মানুষের হূদয়ে হাত দিয়েছেন। দেশের মানুষের হূৎপিণ্ডে হাত দিয়েছেন’। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে তো কথা বলার অধিকার নেই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কত কালাকানুন। প্রতিটা মানুষের কণ্ঠের মধ্যে ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কথা বললেই মামলা।’ তবুও জনগণের পক্ষে বিএনপি সব সময় কথা বলে। তিনি বলেন, আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের রাজসিংহাসন থরথর করে কেঁপে উঠেছে। গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান, আমলাদের প্রধান, পুলিশবাহিনীর প্রধান সব দিল্লি যাচ্ছে। জিয়াউর রহমান বারবার বলেছেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এটা জিয়াউর রহমানের একটি মহান বাক্য মানুষের মুখেমুখে। জনভিত্তি না থাকলে হিল্লি-দিল্লি দৌড়ে কোনো লাভ হবে না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল)’। এরা নব্য রাজাকারের দল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়। আমরাতো জানি তখন রাজনৈতিক নেতারা ছিলেন শরণার্থী। তবু তাদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশের ৫টি ক্যান্টনমেন্টে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকরা ও ইপিআর যদি বিদ্রোহ না করতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হতো কি না সন্দেহ আছে। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞে সাধারণ মানুষ যখন ভীত-সন্ত্রস্ত, রাজনৈতিক নেতারা পলায়নপর, সেই সময় গোটা জাতিকে আশা জোগানোর জন্য কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। এ ধরনের ঘৃণ্য উদ্যোগ গ্রহণ করে জিয়াউর রহমানের মতো সেরা মুক্তিযোদ্ধার খেতাব নিয়ে টানাটানি করে নিজেদের নব্য রাজাকারে পরিণত না হতে আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ধাপে ধাপে আমাদের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছি। আগামীকাল বুধবার বরিশাল বিভাগ ছাড়া দেশের মহানগর ও জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে। একইসঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে সমাবেশ হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)