আলমডাঙ্গায় ফের গনু মিয়া ও জীবননগরে রফিকুল হলেন পৌর পিতা

আপলোড তারিখঃ 2021-02-15 ইং
আলমডাঙ্গায় ফের গনু মিয়া ও জীবননগরে রফিকুল হলেন পৌর পিতা ছবির ক্যাপশন:
চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন : আলমডাঙ্গা ও জীবননগরে ধানের শীষের এজেন্ডদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ মোবাইল-নৌকা সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি : এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে নবনির্বাচিত মেয়রদের সাক্ষাৎ সমীকরণ প্রতিবেদক: সারা দেশের চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভার সঙ্গে একযোগে আলমডাঙ্গা ও জীবননগরে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং জীবননগরে ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা হয়। আলমডাঙ্গা: উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর নানা অভিযোগের মধ্যদিয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তাঁদের ভোট নিয়ে তারপর গণনা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এদিকে, সকাল ৮টার আগে থেকেই বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এরমধ্যে নারী ভোটার সংখ্যাই বেশি ছিল। আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ১৩৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৫৮১ জন ও নারী ১৩ হাজার ৫৫৮ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদির গনু মিয়া ৭ হাজার ৬৫২ পেয়ে চতুর্থবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. সবেদ আলী মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৩ ভোট ও বাংলাদেশ জাতীয়াবাদী দল বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মীর মহি উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে ৩ হাজার ১৫৮ ভোট পেয়েছেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ নিয়ে কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করে। ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এছাড়াও ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ঝামেলাবিহীন অল্প সময়ের মধ্যে ভোট দিতে পেরে খুশি হয়েছেন অনেক ভোটার। আবার অনেকেই পড়েছেন ঝামেলায়। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ভোটারদের দেখিয়ে দিলেও ভুল করেছেন অনেকে। সবুজ বাটনে চাপ দিয়ে ভোট শেষ না করেই শুধু প্রার্থীর প্রতীক অনুযায়ী সাদা বাটনে চাপ দিয়ে বুথ থেকে বেরিয়ে এসেছে অনেকে। পরক্ষণে কম্পিউটারের স্কিনে ভেসে আসছে ভোটটি সম্পূর্ণ হয়নি। আবার ওই ভোটারকে বুথে পাঠিয়ে ভোট সম্পন্ন করেছেন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। ইভিএম পদ্ধতিতে আলমডাঙ্গায় প্রথম নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে খুশি ভোটাররা। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে সুমন ও আফরোজা জানান, এই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁদের। আগে যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এবার সেই ঝামেলা ছিল না। ভোটারদের লাইন থাকলেও লাইন শেষ হতে সময় লাগেছে কম। তা ছাড়া আগে, ব্যালট পেপার নিয়ে বুথে গিয়ে সিল মেরে ব্যালট পেপারটি সঠিক ভাজ করে বাক্সে ফেলতে হতো, এবার সেই ঝামেলাও ছিল না বলে জানান ভোটাররা। বাইরে থেকে ভোটাররা তাঁর নম্বর নিয়ে বুথে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোটার পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর প্রার্থীর প্রতীক অনুযায়ী সাদা বাটন ও ভোটটি শেষ করার জন্য সবুজ বাটনে চাপ দিলেই ভোট দেওয়া শেষ। তবে ইভিএম মেশিনে প্রথম ভোট দিতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়া বেশ কিছু ভোটাররা বলেন, ‘তিনটা কালো মতো টিভি পড়ে আছে, বুঝব কি করে মেয়রের কোনটা আর মেম্বারদের কোনটা। কোনো মতে তিনটা বোতাম টিপে বেরিয়ে আসার সময় দায়িত্বে থাকা একজন বললো চাচা আবার জান, আপনার ভোট দেওয়া হয়নি। পরে ওই লোকটা সাথে গিয়ে আমার পছন্দ অনুযায়ী বোতাম টেপার পর সবুজ বোতামে টিপে দিয়েছে।’ দুপুরের দিকে কয়েকটি স্থানে নৌকা ও মোবাইল প্রতীক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতি হয়। তবে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পরে ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করে জেলা নির্বাচন অফিস ও আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। পৌর নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদির গনু মিয়া ৭ হাজার ৬৫২ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম সবেদ আলী মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৩ ভোট ও বাংলাদেশ জাতীয়াবাদী দল বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মীর মহি উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৮ ভোট। এর আগে গত শনিবার দুপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয় ভোটের সরঞ্জাম। জেলা নির্বাচন অফিস ও আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১৫টি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বুঝে নেন এসব ভোটের সরঞ্জাম। এই প্রথম এ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। গত কয়েকদিন থেকে ১৫টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের (ইভিএম) মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভোট প্রদান কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়েছে। ``এদিকে, নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদির গনু মিয়া চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতকালে তিনি এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নানসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে নির্বাচিত হলেন যারা: আলমডাঙ্গা পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা আসন তিনটি। এই তিনটি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করেছেন মোট ১২ জন প্রার্থী। সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকে ২ হাজার ৫০২ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শিপ্রা বিশ্বাস। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কল্পনা খাতুন চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬০ ভোট এবং রুমা খাতুন জবাফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪০ ভোট। সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাবেয়া খাতুন আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুফিয়া খাতুন চশমা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬৫৬। এই ওয়ার্ডে অন্য দুজন প্রতিন্দন্দ্বী আয়েশা সিদ্দিকা বলপেন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং রেখা খাতুন জবাফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৭ ভোট। সংরক্ষিত তিন নম্বর ওয়ার্ডে চশমা প্রতীকে ১ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মনোয়ারা খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনজিরা খাতুন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৬২ ভোট। এই ওয়ার্ডের অন্য তিনজন প্রার্থীর মধ্যে রাশিদা খাতুন দ্বিতল বাস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২১৩ ভোট, নুরজাহান খাতুন টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯০ ভোট এবং রিতা খাতুন জবা ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ২০১ ভোট। সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা: আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৩৬ জন। ১ নম্বর ওয়ার্ডে পানির বোতল প্রতীকে ৫৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আলাল উদ্দিন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসুদ রানা তুহিন উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২০ ভোট। এই ওয়ার্ডে অন্য তিনজন প্রার্থীর মধ্যে শরিফুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৩০৪ ভোট, নাহিদ হাসান তমাল পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭১ ভোট ও মিকাইল হোসেন ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ২০৯ ভোট। দুই নম্বর ওয়ার্ডে খন্দকার মজিবুল ইসলাম পানির বোতল প্রতীকে ১ হাজার ১৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী আলী আজগর উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৭ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জহুরুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ১ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দিনেশ কুমার বিশ্বাস উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬৫ ভোট। আরেক প্রার্থী নওশের আলী পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ ভোট। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদর উদ্দিন ডালিম প্রতীকে ৬১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরিমল কুমার ঘোষ পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬১ ভোট। এই ওয়ার্ডে অন্য ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ইলিয়াস হোসেন স্ক্রু-ড্রাইভার প্রতীকে পেয়েছেন ২৫২ ভোট, শাহীন রেজা টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ২০৮ ভোট, আখতারুজ্জামান পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ১৩৮ ভোট, হাবিবুর রহমান ফাইল কেবিনেট প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ ভোট, জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৫০ ভোট, আলম হোসেন উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬ ভোট এবং বিমল কুমার বিশ্বাস ব্রিজ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ ভোট। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল গাফফার উটপাখি প্রতীকে ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৭১৭ ভোট। এই ওয়ার্ডের অন্য দুজন প্রার্থী মশিউর রহমান ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ৪২১ ভোট এবং শহিদুল ইসলাম পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডালিম হোসেন ডালিম প্রতীকে ৯৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কাশেম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩৯ ভোট। এই ওয়ার্ডের অন্য দুজন প্রার্থীর মধ্যে রেজাউল হক উটপাখি প্রতীকে ৫৫৪ ভোট ও লালন আলী পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ ভোট পেয়েছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্পি উটপাখি মার্কা প্রতীকে ৬৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুল হক ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬২ ভোট। এই ওয়ার্ডের অন্য দুজন প্রার্থী ফারুক হোসেন টেবিল ল্যাম্প ৪৯৩ এবং শামীম আশরাফ পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ ভোট। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফুল হোসেন পানির বোতল প্রতীকে নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহিদুল ইসলাম উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৩ ভোট। আরেকজন প্রার্থী দেলোয়ার মোল্লা ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ২৯৪ ভোট। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাইফুল মুন্সি উটপাখি প্রতীকে ১ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মামুন-অর-রশিদ হাসান টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৫ ভোট। জীবননগর: ``বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জীবননগর পৌরসভার নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাজান কবির আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও ৭৬৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খোকন পেয়েছেন ২৫৩ ভোট। গতকাল সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্র ও ৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার মোট ভোটার ২০ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১৩৩ জন ও মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৬৯৪ জন। মোট ভোট পোল হয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৬ এবং ভোট বাতিল হয়েছে ৩৪৪। এর আগে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সকাল ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাজান কবির। এরপর একই রকম অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খোকন। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে নির্বাচিত হলেন যারা: সংরক্ষিত মহিলা ১ নম্বর ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন মাহফুজা পারভীন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ারা বেগম চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৭ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে চশমা প্রতীকে ২ হাজার ৫৫০ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন পরিছন বেগম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা আলম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮৬ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চশমা প্রতীকে ৩ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন রিজিয়া বেগম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেলিফোন প্রতীকে ১৪৬৯ ভোট পেয়েছেন রেখা খাতুন। সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা: সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি প্রতীকে ৫৩৯ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন আপিল মাহমুদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পানির বোতল প্রতীকে ৩২৭ ভোট পেয়েছেন আপেল মাহমুদ। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীকে ৮৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পানির বোতলে ৮৩৫ ভোট পেয়েছেন সাইদুর রহমান। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ৪৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন খোকন মিয়া। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উটপাখি প্রতীকে ২৭৬ ভোট পেয়েছেন সাংবাদিক আতিয়ার রহমান। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ৮২৯ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন সোয়েব আহম্মেদ অঞ্জন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উটপাখি প্রতীকে ২৮৮ ভোট পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পানির বোতল প্রতীকে ৮২৬ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন খোকন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উটপাখি প্রতীকে ৬৩৬ ভোট পেয়েছেন খন্দকার আলী আজম। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীকে ৮১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবুল কাশেম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ২৬৫ ভোট পেয়েছেন মুরাদ হোসেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে উটপাখি প্রতীকে ১ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াসিম রাজা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পানির বোতল প্রতীকের ৪৮৫ ভোট পেয়েছেন আক্তারুজ্জামান। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উটপাখি প্রতীক নিয়ে ১০৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডালিম প্রতীকে ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন আশরাফ হোসেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৩১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মতিয়ার রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাঞ্জাবি প্রতীকে ১৮৭ ভোট পেয়েছেন আসাদুল হক। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার এস এম মুনিম লিংকন বলেন, ‘জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসারসহ দুই প্লাটুন বিজিবি নিয়োগ করা ছিল। যে দুজন প্রার্থী অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন, তাঁরা আমাদের নিকট কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তাছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।’ এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগরকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়র্দ্দার ছেলুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন জীবননগর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র রফিকুল ইসলাম। গতকাল রাতে চুয়াডাঙ্গা কবরী রোডস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি এ শুভেচ্ছাবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা, জীবননগর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)