ছবির ক্যাপশন:
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় আলমডাঙ্গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ
আমি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, কোনো রাজাকারের সন্তান নই -এম সবেদ আলী
সমীকরণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গা পৌর নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী (মোবাইল) বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী। মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা আলমডাঙ্গার ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পৌর এলাকার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্টান্ড থেকে শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা এরশাদ মঞ্চে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলীর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রতিবাদ সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে পৌরসভার নানামুখী উন্নয়ন করেছি, যা নিজে মুখে বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা সকলই সে উন্নয়ন সম্পর্কে জানেন। আপনারা জানেন, আমার নির্বাচনী এলাকা পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমার নির্বাচনী অফিস প্রতীক ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের নামধারী কিছু যুবক। আমার অফিস ভাঙচুর করে তারা যদি আমাকে ভয়-ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমি তাদেরকে বলে দিতে চাই, আমি একজন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা। আমি কোনো রাজাকারের সন্তান নই, আমি এসব ভয়-ভীতির পরোয়া করি না, আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি, আমি প্রশাসনের প্রতি আস্থাশীল। আমি আশা করি তারা দল-মত নির্বিশেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমি আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সমর্থকদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেব।’
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি, আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা জাসদের সভাপতি মোল্লা গোলাম সরোয়ার ও সম্পাদক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, আলহাজ্ব আনিসুজ্জামান আনু মিয়া, আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম মণ্ডল, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে আলমডাঙ্গার দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে পৌর এলাকার বণ্ডবিল এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র মীর মহিউদ্দীনের ধানের শীষ প্রতীকের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময় সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. সবেদ আলীর মোবাইলফোন প্রতীকের অফিস ভাঙচুর করা হয় শহরের আনন্দধাম এলাকায়। রাতেই এর প্রতিবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলীর সমর্থকরা শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।
