চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

আপলোড তারিখঃ 2021-02-03 ইং
চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ছবির ক্যাপশন:
বিনা অনুমোদনে চলছে তিনটি নার্সিং হোম ও পাঁচটি ডায়গনস্টিক সেন্টার নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের সামনে অবস্থিত চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্য তালিকা ছোট অক্ষরে প্রদর্শন করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী শহরের বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে মোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ১৩ ধারায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের মর্ডান প্যাথলজিকে ৫ হাজার টাকা, চুয়াডাঙ্গা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, ডিজিটাল বাংলা এক্স-রের মালিককে ৩ হাজার টাকা, সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টারকে ৩ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতায় ছিলেন সদর উপজেলা প্রশানসনের পেশকার সোবহান আলী ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি টিম। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান। অভিযানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. আওলিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান চলাকালীন সময়ে কয়েকজন ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সটকে পড়েন। তাঁরা লাইসেন্স ছাড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের নাকের ডগায় বসেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় অত্র এলাকায় ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, অভিযান চলাকালীন সময়ে যারা প্রতিষ্ঠানের বন্ধ করে চলে গেছেন, তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। অতি শিগগিরই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক ও নার্সিং হোম আছে মোট ১৭টি। এর মধ্যে ১৪টি অনুমোদিত ও ৩টি বিনা অনুমোদিত। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে মোট ২৬টি। এর মধ্যে ২১টি অনুমোদিত ও ৫টি বিনা অনুমোদিত। চুয়াডাঙ্গা জেলা ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস বলেন, মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮২-তে বলা হয়েছে, ১০ শয্যাবিশিষ্ট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান সম্বলিত নির্দিষ্ট কক্ষ, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ৩ জন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক, ১ জন সার্জন ও ৩ জন স্টাফ নার্স থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি পর্যায়ে ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার কথা। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় বেশিরভাগ ক্লিনিক মালিকেরা এসবের কোনো কিছুই মানছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একেবারেই নজরদারী নেই। তিনি আরও বলেন, ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা নেই। এছাড়া যথোপযুক্ত অস্ত্রপচার কক্ষ ও নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং আনাড়ী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী মারা গেছেনে এবং ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। যারা নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদনহীনভাবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)