তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ

আপলোড তারিখঃ 2021-02-01 ইং
তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ ছবির ক্যাপশন:
চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড : কমতে পারে আরো সমীকরণ ডেস্ক: ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ও মধ্য জানুয়ারিতে দুই দফা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর জানুয়ারির শেষে এসে তৃতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের উত্তর-পশ্চিম জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে শীতার্ত মানুষ। অব্যাহত তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা হাসপাতালে ভিড় করছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। গতকাল রোববার দেশের উত্তরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও লালমনিরহাটে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজশাহীতে ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈতপ্রবাহ। গতকাল রোববার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তামপাত্রা এটিই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও শৈত্য প্রবাহের কারণে ঠাণ্ডার মাত্রা কমেনি মোটেও। ফলে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এ এলাকার মানুষ। তীব্র শীত ও ঠাণ্ডা বাতাস মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা কমতে পারে আরো। পাশাপাশি রয়েছে ঘন কুয়াশা। সেইসঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফলে সকালে কাজে বেরিয়ে দুর্ভোগে পড়েন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। রিকশাচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গত দুইদিন বেশ কুয়াশা ছিল। শীতও একটু কম ছিল। কাল (শনিবার) বিকেল থেকে ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। রোদ উঠলেও শীত কমছে না। হালকা বাতাসে পুরো শরীর কালায়ে যাচ্ছে। এ রকম আরও কয়েকদিন হলে সকালে কাজে বের হওয়া যাবে না।’ চাকরিজীবী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৮টার মধ্যে অফিসের উদ্দেশে বের হতে হয়। আজ প্রচণ্ড শীতের কারণে রিকশা না নিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। যাতে শরীরটা একটু গরম থাকে। কিন্তু উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তো নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে।’ সুমন নামে একজন হোটেল কর্মচারী বলেন, ‘সকালে নাস্তার জন্য হোটেলে চাপ থাকে। যে কারণে ফজরের আজানের পর থেকে কাজের চাপ। ওই সময় থেকে পানি ব্যবহার করছি। পানি ধরলে মনে হচ্ছে হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে। আঙুলগুলো নাড়ানো যাচ্ছে না। তারপরও কাজ করছি। ঠান্ডার ভয় করলে মালিক মজুরি দেবে না।’ চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, রোববার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি। এদিকে, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে এবং সারা দেশের দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়াও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশা পড়তে পারে। কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে এখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্যান্য এলাকা এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নিকলী, শ্রীমঙ্গল, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে রংপুর বিভাগসহ চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, যশোর অঞ্চলে এই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)