ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএমে ও দর্শনায় ব্যালটে হবে ভোট গ্রহণ
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল:
আজ দর্শনা পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট গ্রহণ আজ। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএমের মাধ্যমে ও দর্শনা পৌরসভায় ব্যালটের মাধ্যমে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অলি-গলির চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজারে সর্বত্র ভোটের আলোচনা-সমালোচনার সময় শেষ হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সময় এসেছে। ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সকল মালামাল পৌঁছে গেছে এবং দর্শনা পৌরসভার কেন্দ্রে কেন্দ্র সকালে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হবে। এখন দিনশেষে কে হবেন দর্শনা পৌর পিতা, ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সেই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। তবে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেগ পেতে হবে না বেশি, আজই জানা যাবে, নতুন পৌর পিতার নাম।
এদিকে, ভোট গ্রহণ উপলক্ষে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি কেন্দ্রসহ শহরের অলি-গলি-বাজার সাজানো হয়েছে পোস্টারে পোস্টারে। বিভিন্ন রাস্তাঘাটে ঝুলছে ব্যানার-ফেস্টুন। সবমিলিয়ে ব্যাপক উৎসব এবং উদ্দীপনার মধ্যেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘন বা বিচ্ছৃঙ্খলা হলে নেওয়া হবে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকেই দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
ইভিএমে ভোট গ্রহণ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বলছে, কোনো প্রকার ভোট কারচুপি সম্ভব নয়। কারচুপি যাতে না হয়, সেজন্য সকালে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। জেলা নির্বাচন অফিসার ও পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ জানান, ‘নির্বাচন একশ শতাংশ স্বচ্ছ হবে। আমরা তৎপর আছি। নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্টু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার জানান, ‘এর আগেও চুয়াডাঙ্গায় কয়েকটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এবারের দর্শনা পৌর নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সেটা আমি আশ্বস্ত করছি।’
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ইতোমধ্যে নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী পুলিশ অফিসার ফোর্সদের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কারও গাফলতির কারণে অবাধ ভোট গ্রহণ বিঘ্নিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পরিশেষে পুলিশ সুপার সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটের সঙ্গে সংশ্লি¬ষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটারসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলাকারী যেই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রার্থী হিসেবে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী মতিয়ার রহমান, বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান বুলেট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশকার আলী।
১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আম্বিয়া খাতুন ও বিলকিস খাতুন। ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে খাতুন ও শিউলি আক্তার এবং ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে সুরাতন নেসা, সেলিনা পারভীন, ফাহিমা খাতুন ও শাহিমা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- নাসির উদ্দিন খেদু, খালেকুজ্জামান খালেক, আজিজুর রহমান সুজন ও আনোয়ার হোসেন।
২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আব্দুল কুদ্দুস, এনামুল কবির ও সোহেল রানা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- রবিউল হক সুমন, আনোয়ারুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- মনির সরদার, আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, সোহেল মিয়া ও হাবিবুল্লাহ বাহার।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আব্দুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম, লাল্টু খান, লুৎফর রহমান, সাইফুল ইসলাম।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- কামরুল হুদা, রেজাউল ইসলাম ও হারুন-অর-রশিদ।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আয়নাল হক, কানচু মাতবার, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবির হোসেন মিকা।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- চাঁন্দু মাস্টার, নাসির উদ্দিন, বাবুল আক্তার, বিল্লাল হোসেন ও শরীফ উদ্দিন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আজিজুল হক, আশুর উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, বাবলুর রহমান, মঈন উদ্দিন ও সাইদুর রহমান।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- কামরুন্নাহার, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মালেক, আলমগীর হোসেন, মুনছুর আলী, জয়নাল আবেদীন, গোলজার হোসেন, মোমিনুর রহমান ও রমজান আলী চান্দু।
