ছবির ক্যাপশন:
গাংনীতে রাতভর সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব : ভাটা শ্রমিকদের মারধর, ট্রাক ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাই
গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চারটি ইটভাটায় রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ইটভাটাগুলো বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে তারা। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ইটভাটাগুলোর শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষের যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী হামলায় আহত শ্রমিকেরা হলেন- টু স্টার ইটভাটার সাজেদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, হাকিম শেখ, ফিরোজ আলী, পায়রা ইটভাটার মিনারুল ইসলাম, নাজমুল হক, শমসের আলী কালু, রণ্টু, পান্না ইটভাটার পলান এবং এএসবি ভাটার লিটন আলী, আব্দুল হান্নান ও তরিকুল ইসলাম।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা যায়, গভীর রাতে যখন শ্রমিকেরা ইট পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন, সে সময় চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রথমে থানা রোডে পান্না ব্রিকসে হানা দেয়। এসময় ইট পোড়ানোর শ্রমিকদের জিম্মি করে মারধর করে তারা। পর্যায়ক্রমে পার্শ্ববর্তী পায়রা ব্রিকস, টু স্টার ব্রিকস ও এএসবি ব্রিকসে হানা দিয়ে তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীরা চিরকুটে মোবাইল নাম্বার লিখে দিয়ে যায় এবং শ্রমিকদের বলে ‘তোদের মালিকদের জানাবি, আমাদের চাঁদা দিয়ে তাদের ইটভাটা চালাতে হবে। চাঁদা না দিলে সব ভাটা বন্ধ করে দেব।’
এএসবি ব্রিকসের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে শ্রমিকদের জিম্মি করে মারধর করেছে। ফরিদপুর থেকে খড়ি নিয়ে আসা ট্রাকের সামনের গ্লাস ভেঙে দেয় এবং ড্রাইভারের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। সন্ত্রাসীরা চারটি ইটভাটাতেই চিরকুটে লিখে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। চাঁদা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ইটভাটা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি নিয়ে ইটভাটাগুলোর শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সকাল থেকে ইটভাটার কার্যক্রম চালু থাকলেও রাতে শ্রমিকেরা আর কাজ করতে চাইছে না।’
ইটভাটা মালিক হাজি মহাসিন আলী জানান, প্রায় তিন-চার বছর হতে চলল এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ ছিল। আবারও সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তা ছাড়া গত কয়েকদিন আগে ধানখোলা ও হাড়িয়াদহ রোড এলাকার পাশের পৌরসভার লাইটিং ব্যবস্থাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রতিবছর ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে বড় অংকের ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট পেয়ে থাকে। তাছাড়া ইটের সাথে সম্পর্কিত সরকারের উন্নয়ন কাজ, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান জড়িত। তারপরও বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহনশীল হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর জিডি দায়ের করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
