ছবির ক্যাপশন:
মুজিববর্ষে সারা দেশে ৬৬ হাজার গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
চুয়াডাঙ্গায় পেলেন ১৩৪টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার : ঘর পেয়ে ঘরে ঘরে আনন্দ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না-এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে চলমান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ঘর পেলো ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর করে দিতে এখন পর্যন্ত প্রায় নয় লাখ পরিবারকে তালিকাভূক্ত করেছে সরকার। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকাঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঘর পেল প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে।
চুয়াডাঙ্গা:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৩৪টিসহ সারা দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমির কাগজ (দলিল) ও বাড়ির চাবি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। চুয়াডাঙ্গা প্রান্তে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে যুক্ত থেকে এ উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সদর উপজেলায় ৩৪টিসহ জেলায় মোট ১৩৪ জনকে জমির কাগজ ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা প্রান্তে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জমির কাগজ ও চাবি সুবিধাভোগীদের মধ্যে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে মুজিববর্ষের লক্ষ্য, যাতে দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছুই হতে পারে না। এভাবেই মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পুরো বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে, যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে, যাতে তাঁরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন, আমরা সে ব্যবস্থা করে দেব। যাঁদের থাকার ঘর নেই, ঠিকানা নেই, আমরা তাঁদের যেভাবেই হোক, একটা ঠিকানা করে দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলো আমরা করোনার কারণে করতে পারিনি। তবে, করোনা একদিকে আশীর্বাদও হয়েছে। কারণ, আমরা এই একটি কাজের দিকেই (গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়া) নজর দিতে পেরেছি। আজকে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সীমিত আকারে আমরা করে দিচ্ছি এবং একটা ঠিকানা আমি সব মানুষের জন্য করে দেব। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, যখন এই মানুষগুলো ঘরে থাকবেন, তখন আমার বাবা এবং মা যাঁরা সারাটা জীবন এ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁদের আত্মাটা অন্তত শান্তি পাবে। কারণ, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাটাই ছিল আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একমাত্র লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে এত অল্প সময়ে এতগুলো পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিতে পেরেছি। এই শীতের মধ্যে তারা থাকতে পারবে। কেননা, আমাদের যাঁরা শরণার্থী (রোহিঙ্গা), তাঁদের জন্যও আমরা ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী এই স্বল্প সময়ে সফলভাবে গৃহনির্মাণ ও কাগজপত্র তৈরির মতো জটিল কাজ ঠিকাদার নিয়োগ না দিয়ে সম্পন্ন করতে পারায় জেলা প্রশাসন, তাঁর দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এই গৃহায়ণ প্রকল্পে কোনো শ্রেণি বাদ যাচ্ছে না, বেদে শ্রেণিকেও আমরা ঘর করে দিয়েছি। হিজড়াদের স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তাঁদেরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলিত বা হরিজন শ্রেণির জন্য উচ্চমানের ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছি। চা শ্রমিকদের জন্য করে দিয়েছি। এভাবে প্রতিটি শ্রেণির মানুষের পুনর্বাসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
’শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ’৯৭ পরবর্তী সময়ে চালু করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ২০০১-০৮ পর্যন্ত সময় বাংলাদেশের জন্য একটি অন্ধকার যুগ ছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্যের কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সে সময়ে বিরোধী দলে থাকলেও বিনা কারণে কারাবন্দী হওয়ার স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দী হয়ে গেলাম আমি। তারপরও আমি আশা ছাড়িনি, আল্লাহ একদিন সময় দেবে এবং এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।’ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয় যুক্ত করায় এ সময় আবারও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরগুলো হস্তান্তরকালে সশরীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারার আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল নিজ হাতে আপনাদের কাছে বাড়ির দলিলগুলো তুলে দেব। কিন্তু এই করোনাভাইরাসের কারণে সেটা করতে পারলাম না। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম বলেই আপনাদের সামনে এভাবে হাজির হতে পেরেছি।’
এদিকে, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ আওতায় সারা দেশের ন্যায় ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলায় ১৩৪ পরিবারের মধ্যে বাড়ির চাবি ও ২ শতক জমির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলায় ৩৪টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫০টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩২টি এবং জীবননগর উপজেলায় ১৮টি পরিবার রয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের প্রতিটি বাড়ী নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় ঘর পাবে ভুমি ও গৃহহীন ১ হাজার ১৩১টি পরিবার। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮৪টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৫২টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৫৯টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৩৬৬টি পরিবার। এছাড়াও যার জমি আছে, ঘর নেই এমন পরিবারের জন্য ভুমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯ হাজার ৯৫৪টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৮১টি পরিবার, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ হাজার ৯১টি পরিবার, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৬১টি পরিবার এবং জীবননগর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২টি পরিবার রয়েছে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় নিজস্ব অর্থায়নে গৃহ নির্মাণে আগ্রহী জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা অর্থ সহযোগিতা করে আরও ৩০টি পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন। তারা হলেন- চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ৪টি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর ৪টি, জেলা প্রশাসন ১টি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ৭টি, মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু ১টি, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু ২টি, মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.এ. রাজ্জাক খান রাজ ৫টি, মোল্লা মটরসের স্বত্বাধিকারী সহিদুল হক মোল্লা ৫টি এবং ব্যবসায়ী হাসান জোয়ার্দ্দার টোকন ১টি। এর বাইরেও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব আছিয়া বেগম হাউলি গ্রামে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বড়শলুয়া গ্রামে ২টি পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে গৃহ ও জমি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহ ও জমি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী সভাপতিত্বে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কৃষিবিদ গোলাম সরোয়ার। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অফিসার হোসেন শহীদ সোহরোয়ার্দী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, সমাজসেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাকছুরা জান্নাত, বিআরডিবি কর্মকর্তা সায়লা শারমীন, সমবায় কর্মকর্তা মজিবর রহমান, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, কাউছার আহম্মদ বাবলু, নুরুল ইসলাম নুরু, নজরুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাইদ পিন্টু, তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।
দামুড়হুদা:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দামুড়হুদা উপজেলায় ৩২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে গৃহ ও জমি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহ ও জমি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গৃহ ও জমি প্রদান অনুষ্ঠানে দামুড়হুদা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফজুর রহমান মন্জু, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানসহ ও উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জীবননগর:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় জীবননগরে ১৮জন গৃহহীনদের জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলার ১৮জন ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরুপ জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুনিম লিংকনের সভাপতিত্বে জীবননগর উপজেলা পরিষদের হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাজি হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস আয়েসা সুলতানা লাকী, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, বাকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, হাসাদহ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিশ্বাস, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আর বাবু।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলায় প্রথম দফায় ২৭ জন বাড়ি পেয়েছেন। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ১৬, গাংনী উপজেলায় ৭ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৪ গৃহহীন পরিবার। মেহেরপুরে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার পর মেহেরপুর জেলার ৩ উপজেলার ২৬ জন উপকারভোগীর মাঝে এসব বাড়ির দলিল হস্তান্তর করেন উপজেলা প্রশাসন। মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকারের সভাপতিত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজ আল আসাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিয়াউদ্দীন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য্য, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ। এদিকে মেহেরপুর সদরে ১৬ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. মো. ইয়ারুল ইসলাম।
হরিণাকুণ্ড:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৫টি পরিবার পেল স্বপ্নের পাকা বাড়ি। গতকাল শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সারা দেশের ন্যায় ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিস সুলতানা, সকল ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তর প্রধানসহ ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৫টি পরিবারের লোকজন।
কালীগঞ্জ:
`আশ্রায়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার` এ স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে মাথা গোজার ঠাঁই পেলেন ১২টি ভূমিহীন পরিবার। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪৯২টি উপজেলার সাথে গৃহহীন ভূমিহীনদের মুজিববর্ষের এ উপহার প্রদানের উদ্বোধন করেন। এসময় গৃহহীন ১২টি পরিবারের মধ্যে গৃহ ও জমির দলিলাদি হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। ভূমিহীনদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর উপলক্ষে গতকাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন। এ অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান, গনমাধ্যমকর্মীসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৭ টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে নতুন বাড়ি প্রদান করা হবে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৩৪টিসহ সারা দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমির কাগজ (দলিল) ও বাড়ির চাবি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। চুয়াডাঙ্গা প্রান্তে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে যুক্ত থেকে এ উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সদর উপজেলায় ৩৪টিসহ জেলায় মোট ১৩৪ জনকে জমির কাগজ ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা প্রান্তে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জমির কাগজ ও চাবি সুবিধাভোগীদের মধ্যে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে মুজিববর্ষের লক্ষ্য, যাতে দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছুই হতে পারে না। এভাবেই মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পুরো বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে, যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে, যাতে তাঁরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন, আমরা সে ব্যবস্থা করে দেব। যাঁদের থাকার ঘর নেই, ঠিকানা নেই, আমরা তাঁদের যেভাবেই হোক, একটা ঠিকানা করে দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলো আমরা করোনার কারণে করতে পারিনি। তবে, করোনা একদিকে আশীর্বাদও হয়েছে। কারণ, আমরা এই একটি কাজের দিকেই (গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়া) নজর দিতে পেরেছি। আজকে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সীমিত আকারে আমরা করে দিচ্ছি এবং একটা ঠিকানা আমি সব মানুষের জন্য করে দেব। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, যখন এই মানুষগুলো ঘরে থাকবেন, তখন আমার বাবা এবং মা যাঁরা সারাটা জীবন এ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁদের আত্মাটা অন্তত শান্তি পাবে। কারণ, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাটাই ছিল আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একমাত্র লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে এত অল্প সময়ে এতগুলো পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিতে পেরেছি। এই শীতের মধ্যে তারা থাকতে পারবে। কেননা, আমাদের যাঁরা শরণার্থী (রোহিঙ্গা), তাঁদের জন্যও আমরা ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী এই স্বল্প সময়ে সফলভাবে গৃহনির্মাণ ও কাগজপত্র তৈরির মতো জটিল কাজ ঠিকাদার নিয়োগ না দিয়ে সম্পন্ন করতে পারায় জেলা প্রশাসন, তাঁর দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এই গৃহায়ণ প্রকল্পে কোনো শ্রেণি বাদ যাচ্ছে না, বেদে শ্রেণিকেও আমরা ঘর করে দিয়েছি। হিজড়াদের স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তাঁদেরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দলিত বা হরিজন শ্রেণির জন্য উচ্চমানের ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছি। চা শ্রমিকদের জন্য করে দিয়েছি। এভাবে প্রতিটি শ্রেণির মানুষের পুনর্বাসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
’শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ’৯৭ পরবর্তী সময়ে চালু করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ২০০১-০৮ পর্যন্ত সময় বাংলাদেশের জন্য একটি অন্ধকার যুগ ছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্যের কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সে সময়ে বিরোধী দলে থাকলেও বিনা কারণে কারাবন্দী হওয়ার স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দী হয়ে গেলাম আমি। তারপরও আমি আশা ছাড়িনি, আল্লাহ একদিন সময় দেবে এবং এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।’ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয় যুক্ত করায় এ সময় আবারও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরগুলো হস্তান্তরকালে সশরীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারার আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল নিজ হাতে আপনাদের কাছে বাড়ির দলিলগুলো তুলে দেব। কিন্তু এই করোনাভাইরাসের কারণে সেটা করতে পারলাম না। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম বলেই আপনাদের সামনে এভাবে হাজির হতে পেরেছি।’
এদিকে, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ আওতায় সারা দেশের ন্যায় ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলায় ১৩৪ পরিবারের মধ্যে বাড়ির চাবি ও ২ শতক জমির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলায় ৩৪টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫০টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩২টি এবং জীবননগর উপজেলায় ১৮টি পরিবার রয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের প্রতিটি বাড়ী নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় ঘর পাবে ভুমি ও গৃহহীন ১ হাজার ১৩১টি পরিবার। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮৪টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৫২টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৫৯টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৩৬৬টি পরিবার। এছাড়াও যার জমি আছে, ঘর নেই এমন পরিবারের জন্য ভুমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯ হাজার ৯৫৪টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৮১টি পরিবার, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ হাজার ৯১টি পরিবার, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৬১টি পরিবার এবং জীবননগর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২টি পরিবার রয়েছে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় নিজস্ব অর্থায়নে গৃহ নির্মাণে আগ্রহী জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা অর্থ সহযোগিতা করে আরও ৩০টি পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন। তারা হলেন- চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ৪টি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর ৪টি, জেলা প্রশাসন ১টি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ৭টি, মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু ১টি, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু ২টি, মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.এ. রাজ্জাক খান রাজ ৫টি, মোল্লা মটরসের স্বত্বাধিকারী সহিদুল হক মোল্লা ৫টি এবং ব্যবসায়ী হাসান জোয়ার্দ্দার টোকন ১টি। এর বাইরেও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব আছিয়া বেগম হাউলি গ্রামে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বড়শলুয়া গ্রামে ২টি পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে গৃহ ও জমি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহ ও জমি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী সভাপতিত্বে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কৃষিবিদ গোলাম সরোয়ার। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অফিসার হোসেন শহীদ সোহরোয়ার্দী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, সমাজসেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাকছুরা জান্নাত, বিআরডিবি কর্মকর্তা সায়লা শারমীন, সমবায় কর্মকর্তা মজিবর রহমান, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, কাউছার আহম্মদ বাবলু, নুরুল ইসলাম নুরু, নজরুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাইদ পিন্টু, তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।
দামুড়হুদা:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দামুড়হুদা উপজেলায় ৩২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে গৃহ ও জমি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহ ও জমি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গৃহ ও জমি প্রদান অনুষ্ঠানে দামুড়হুদা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফজুর রহমান মন্জু, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানসহ ও উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জীবননগর:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় জীবননগরে ১৮জন গৃহহীনদের জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলার ১৮জন ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরুপ জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুনিম লিংকনের সভাপতিত্বে জীবননগর উপজেলা পরিষদের হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিসহ বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাজি হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস আয়েসা সুলতানা লাকী, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, বাকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, হাসাদহ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিশ্বাস, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আর বাবু।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলায় প্রথম দফায় ২৭ জন বাড়ি পেয়েছেন। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ১৬, গাংনী উপজেলায় ৭ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৪ গৃহহীন পরিবার। মেহেরপুরে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার পর মেহেরপুর জেলার ৩ উপজেলার ২৬ জন উপকারভোগীর মাঝে এসব বাড়ির দলিল হস্তান্তর করেন উপজেলা প্রশাসন। মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকারের সভাপতিত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজ আল আসাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিয়াউদ্দীন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য্য, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ। এদিকে মেহেরপুর সদরে ১৬ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. মো. ইয়ারুল ইসলাম।
হরিণাকুণ্ড:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৫টি পরিবার পেল স্বপ্নের পাকা বাড়ি। গতকাল শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সারা দেশের ন্যায় ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিস সুলতানা, সকল ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তর প্রধানসহ ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৫টি পরিবারের লোকজন।
কালীগঞ্জ:
`আশ্রায়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার` এ স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে মাথা গোজার ঠাঁই পেলেন ১২টি ভূমিহীন পরিবার। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪৯২টি উপজেলার সাথে গৃহহীন ভূমিহীনদের মুজিববর্ষের এ উপহার প্রদানের উদ্বোধন করেন। এসময় গৃহহীন ১২টি পরিবারের মধ্যে গৃহ ও জমির দলিলাদি হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার। ভূমিহীনদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর উপলক্ষে গতকাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন। এ অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান, গনমাধ্যমকর্মীসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৭ টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে নতুন বাড়ি প্রদান করা হবে।
