ছবির ক্যাপশন:
শৈলকুপার মদনডাঙ্গায় ট্রাক-আলমসাধু মুখোমুখি সংঘর্ষ
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের শৈলকুপার মদনডাঙ্গা এলাকায় ট্রাক-আলমসাধু মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মদনডাঙ্গা বাজারে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর উপজেলার কলমনখালী গ্রামের কওছার মণ্ডলের ছেলে কছিমুদ্দিন, সুরাট ইউনিয়নের হামদহডাঙ্গা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মানিক ও ইশারত জোয়ার্দ্দারের ছেলে আজাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের বাড়ি হামদহডাঙ্গা হলেও লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি স্বজনরা। তবে ওই গ্রামের মজনু ও জয়ফুল নামে আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে বলে গ্রামবাসী জানায়। এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত কছিমুদ্দীনের ছেলে রাব্বি হাসান গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যাক্ষদর্শী শেখপাড়া এলাকার আফান উদ্দীন জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হতাহতরা একটি নছিমন গাড়িতে চেপে মিকসার মেশিন ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরা ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের শ্রীরামপুর নামক স্থানে পৌঁছালে রাস্তা খারাপ হওয়ায় নছিমন গাড়িটি পাশ দিয়ে (রং সাইট) যেতে গেলে প্রথমে তাঁদের বহনকৃত নছিমনকে পেছন থেকে আসা একটি পরিবহন ধাক্কা দেয়। এতে তারা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে। পরে সেনা কল্যাণ সংস্থার একটি ট্রাক তাঁদের পিষ্ট করে চলে যায় বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে মারা যান ৬ জন। পরে আরও দুজন মারা যান।
শৈলকুপা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, শৈলকুপার শেখপাড়া এলাকা থেকে এক দল নির্মাণ শ্রমিক ইঞ্জিনচালিত আলমসাধুযোগে খোয়াভাঙ্গা মিকসার মেশিন নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের দিকে যাচ্ছিল। তারা ওই স্থানে পৌঁছালে আলমসাধুর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জন মারা যান। পরে আরও দুজন মারা যান। গুরুতর আহত হন আরও ৪ জন। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় আহতদেরকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতরা হলেন- সদর উপজেলার কলামনখালি গ্রামের আলমসাধু চালক রাব্বি হাসান (২৫), দক্ষিণ কাস্ট সাগরা গ্রামের রিপন হোসেন (৩৫), হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শাখারিদাহ গ্রামের মেহেদি হাসান (৩২) ও অজ্ঞাতনামা একজন। হতাহতদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।
