ছবির ক্যাপশন:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৮৪
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে আরও ৬৮৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬২০ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষাসহ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯ হাজার ৭০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ওই মাসের শেষের দিক থেকে রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। একপর্যায়ে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় দুই হাজার ছাড়ায়। অবশ্য কিছুদিন ধরে নতুন রোগী শনাক্ত দুই হাজারের কম। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বিশেষ করে বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা, কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনার নতুন কোনো ফলাফল নেই। গতকাল জেলা সিভিল সার্জন অফিস করোনার নতুন কোনো ফলাফল প্রকাশ করেনি। তবে জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৪৩ জন। গতকাল শনিবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলার সদর উপজেলা থেকে থেকে করোনা আক্রান্ত ৫ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৫৫৫ জন।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৩৩টি আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে ২টি নমুনাসহ সংগৃহীত ৩৫টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৭ হাজার ৩৮০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৭ হাজার ১৭১টি, পজিটিভ ১ হাজার ৬৪৩টি, নেগেটিভ ৫ হাজার ৫২৮টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় হোম আইসোলেশনে ছিল ১৪ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিল ৬ জন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ জন। এরমধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাইরে।
ঝিনাইদহ:
করোনা আক্রান্ত হয়ে ঝিনাইদহের কাজী রিয়াজুল ইসলাম পিয়াস (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত কাজী রিয়াজুল ইসলাম পিয়াস ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পার্কপাড়ার কাজী আমিনুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে। জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর পিয়াসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ২৪ ডিসেম্বর আনোয়ার খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকালাই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মাওলানা শাহিনুরের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।
