ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে বই উৎসব অনুষ্ঠিত
সমীকরণ প্রতিবেদন:
মহামারি করোনার মধ্যেও বছরের প্রথম দিন নতুন বইয়ের আনন্দ থেকে বাদ পড়েনি শিক্ষার্থীরা। নতুন শিক্ষাবর্ষের দিন প্রাথমিকের খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রায় ৯০ শতাংশ বই তুলে দেওয়া সম্ভব হলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ স্তরের বই ছাপানোর কাজে বিঘ্ন ঘটায় সব বই এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাই স্কুলগুলো সব ক্লাসের বই বিতরণের প্রস্তুতি নিতে পারেনি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে মাধ্যমিকের বইগুলো ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করতে বলা হয়। নতুন দিনে নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুদে শিশুরা। করোনার কারণে এবার উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রেখেই স্কুল থেকেই বই বিতরণ করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বই বিতরণের এই চিত্র পাওয়া গেছে। এদিকে, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
করোনা মহামারি ছাপিয়ে দেশে এবার বর্ষবরণের আনন্দ একেবারেই আলাদা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাস পর অনেক শিক্ষার্থী এসেছে স্কুল প্রাঙ্গণে। তাই আবেগটা ছিল একটু বেশিই। বছরের প্রথম দিনের সেরা উপহার। তাইতো উচ্ছ্বাসে নেই কোনো কমতি। বরং নতুন বই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে ভাসে কচিকাচার দল। নতুন বইয়ের নতুন ঘ্রাণ সাথে দীর্ঘ ঘরবন্দি জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা মুক্তি। পাশাপাশি প্রিয় বন্ধুর সহচার্য আনন্দ বাড়িয়েছে বহুগুণ। বই নিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলে, আমার নতুন বই পড়তে অনেক ভালো লাগে। নতুন বই পাওয়া আগ্রহে ছিলাম এতদিন। অবশেষে আজ হাতে পেলাম। এখন দারুণ খুশি লাগছে। গতকাল শুক্রবার শীতের মিষ্টি সকালে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয় বই বিতরণের এই আয়োজন। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে গেছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের হৃদয়ও। এক অভিভাবক বলেন, করোনা পরিস্থিতি একটু ভালো হলে স্কুল খুলবে। সেই প্রত্যাশায় রয়েছি। তবে কোথাও কোথাও করোনার বেড়াজালে বই বিতরণের আয়োজনে ছিল বেশ বিধি-নিষেধ। স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বই তুলে দেওয়া হয় অভিভাবকদের হাতে। মহামারির মধ্যে বই তুলে দিতে পারার সন্তুষ্টি থাকলেও অভিভাবক ও শিক্ষকদের মনে ছিল চাপা কষ্ট। প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে পেতে উদগ্রীব ছিলেন শিক্ষকরা। এক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থেকে বাবা-মায়ের কথা মতো চলাফেরা করুক। এবং নতুন বইগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুক। তাদের কাছে এই প্রত্যাশা। তবে অনেক অভিভাবকই হেরে যান সন্তানের বায়নার কাছে। বিধি-নিষেধ মেনে সন্তানকে স্কুল করিডোরের বাইরে রেখে বই নিয়ে তা তুলে দেন প্রিয় সন্তানের হাতে
জীবননগর:
জীবননগর উপজেলায় নতুন বছরে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে নতুন বছরের প্রথম দিনে উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩৫টি কেজি স্কুলের প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মীনি মেহেরুন্নেছা ও জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। একই দিনে আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাইটিভির সিনিয়র রিপোর্টার এস কে লিটন, আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, শিক্ষক আবুল হাসেমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কার্পাসডাঙ্গা:
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বছরের প্রথম দিনেই সরকারি বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কানাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিরপুরকুল্লা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর বালিকা মাদ্রাসা, কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঘাডাঙ্গা, কোমরপুর, সুবুলপুর, হুদাপাড়া, কাঞ্চনতলা, আরামডাঙ্গা, পিরপুরকুল্লা, শিবনগর, জাহাজপোতা, মুন্সিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যববিধি মেনে বই বিতরণ করা হয়।
উথলী:
দেশব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিবছরের ন্যায় ২০২১ সালের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে আনুষ্ঠিকভাবে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসারা প্রাঙ্গনে এই বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু জাফর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহসুপার আলমগীর হোসেন ও শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। জুমের মাধ্যমে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. তাজুল ইসলাম ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাহাবুব এলাহি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিম ও পিপি পল্লব ভট্টাচার্য্য। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তৌফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার মো. নাহিদ হোসেন, মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আপিল উদ্দীন, মেহেরপুর এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইয়াসিন আলি শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০২১ সালে মেহেরপুর জেলায় ৩শ ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।
এদিকে, মেহেরপুরে জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি জুমের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তৌফিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার, সহকারী কমিশনার মো. নাহিদ হোসেন, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মণ্ডল, মেহেরপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মুস্তাকিম হোসেন, প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন প্রমুখ। ২০২১ সালে মেহেরপুর জেলায় ১২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৩ হাজার ১৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার এবং মাদ্রাসায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।
বারাদী:
মেহেরপুর সদরের মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মেহেদী রেজার সভাপতিত্বে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বারাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিন বই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। বছরের প্রথম দিনেই সরকারি নির্দেশনায় এ নতুন বই পেয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দ প্রকাশ করেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক তারিক মুছা, ইউনুচ আলী, ফারুক হোসেন, ছালমা পারভিন, তৌহিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
ঝিনাইদহ:
সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহে করোনা মহামারির মধ্যে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। এসময় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সফিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুষেন্দু কুমার ভৌমিকসহ শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গতকাল শহরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে। করোনা মহামারির মাঝেও সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে বই বিতরণ করায় খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৮’শ ৩০ টি বই বিতরণ করা হবে।
জীবননগর উপজেলায় নতুন বছরে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে নতুন বছরের প্রথম দিনে উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩৫টি কেজি স্কুলের প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মীনি মেহেরুন্নেছা ও জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। একই দিনে আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাইটিভির সিনিয়র রিপোর্টার এস কে লিটন, আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, শিক্ষক আবুল হাসেমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কার্পাসডাঙ্গা:
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বছরের প্রথম দিনেই সরকারি বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কানাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিরপুরকুল্লা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর বালিকা মাদ্রাসা, কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঘাডাঙ্গা, কোমরপুর, সুবুলপুর, হুদাপাড়া, কাঞ্চনতলা, আরামডাঙ্গা, পিরপুরকুল্লা, শিবনগর, জাহাজপোতা, মুন্সিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যববিধি মেনে বই বিতরণ করা হয়।
উথলী:
দেশব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিবছরের ন্যায় ২০২১ সালের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে আনুষ্ঠিকভাবে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসারা প্রাঙ্গনে এই বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু জাফর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহসুপার আলমগীর হোসেন ও শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। জুমের মাধ্যমে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. তাজুল ইসলাম ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাহাবুব এলাহি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিম ও পিপি পল্লব ভট্টাচার্য্য। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তৌফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার মো. নাহিদ হোসেন, মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আপিল উদ্দীন, মেহেরপুর এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইয়াসিন আলি শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০২১ সালে মেহেরপুর জেলায় ৩শ ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।
এদিকে, মেহেরপুরে জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি জুমের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্যবই বিতরণের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তৌফিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার, সহকারী কমিশনার মো. নাহিদ হোসেন, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মণ্ডল, মেহেরপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মুস্তাকিম হোসেন, প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন প্রমুখ। ২০২১ সালে মেহেরপুর জেলায় ১২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৩ হাজার ১৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার এবং মাদ্রাসায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।
বারাদী:
মেহেরপুর সদরের মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মেহেদী রেজার সভাপতিত্বে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বারাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিন বই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। বছরের প্রথম দিনেই সরকারি নির্দেশনায় এ নতুন বই পেয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দ প্রকাশ করেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক তারিক মুছা, ইউনুচ আলী, ফারুক হোসেন, ছালমা পারভিন, তৌহিদুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
ঝিনাইদহ:
সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহে করোনা মহামারির মধ্যে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। এসময় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সফিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুষেন্দু কুমার ভৌমিকসহ শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গতকাল শহরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে। করোনা মহামারির মাঝেও সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে বই বিতরণ করায় খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৮’শ ৩০ টি বই বিতরণ করা হবে।
