ছবির ক্যাপশন:
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, দর্শনা কেরুজ চিনিকলের ২০২০-২১ আখ মাড়াই মওসুমের উদ্বোধন আজ
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল:
সকল প্রস্তুতি শেষে আজ দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকলে ২০২০-২১ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মাড়াই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব ৬টি চিনিকল বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ চিনিকল ফেডারেশন ও আখচাষি ফেডারেশনের দেওয়া আন্দোলন কর্মসূচির কারণে তা বিলম্ব হয়ে মাড়াই কার্যক্রমের নির্ধারণ করা হয় আজ। এ বিলম্ব সময়ের মধ্যে কেরু চিনিকল কর্তৃপক্ষ বয়লারের শ্লো-ফাইরিং, ওয়াটার ট্রাইংসহ সকল যন্ত্র-মেশিং মেইনটেন্স কার্যক্রম শেষে মাড়াই কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করে ফেলে। তবে কুষ্টিয়ার জগতি চিনিকলটি বন্ধ হওয়ার কারণে ওইসব এলাকার আখ কেরুতে মাড়াই করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কুষ্টিয়া জগতি চিনিকলের আখ কেরুতে মাড়াই করার কারণে কেরু চিনিকল এলাকার আখচাষিরা রয়েছেন আতঙ্কে। এমনিতেই ১৫ দিন পরে মাড়াই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, তা ছাড়া অন্য চিনিকলের আখ কেরু চিনিকলে সরবরাহ করলে কেরু এলাকার আখ সময়মতো না তুলতে পারলে বোরো ধানের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
কেরু চিনিকলের কারখানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাড়াই মৌসুমে কেরু চিনিকল ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনিকলের নিজস্ব ১ হাজার ৫৫০ একর জমিতে ২৪ হাজার মেট্রিক টন আখ এবং কৃষকের ৬ হাজার ৯৮২ একর জমির ৯৪ হাজার মেট্রিক টন আখ রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার জগতি চিনিকলের আওতাধীন কৃষকদের ৩৬ হাজার মেট্রিকটন আখ কেরুজ চিনিকলে মাড়াই করা হবে। ফলে এবারের মাড়াই কার্যদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪ দিন। চিনি আহরণের গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় মিলের ক্যান ক্যারিয়ার চত্বরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে ২০২০-২১ আখ মাড়াই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে।
কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, ‘চিনিকলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও লোকসানের বোঝা কমাতে প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তাদের আন্তরিক হতে হবে। কোনো প্রকার অনিয়মের কারণে যদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে এর দ্বায়ভার সকলকে নিতে হবে। এছাড়া তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে কেরুজ চিনিকল এলাকার চাষিরা কিছুটা আতঙ্কে রয়েছে। তবে কেরুজ চিনিকল বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। যেসব চিনি কারখানায় লোকসান হচ্ছিল, সেগুলোর মধ্যে ৬টি চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রম সরকার বন্ধ রেখেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের এ ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ প্রায় ৭ যুগ এ অঞ্চলকে আলোকিত করে রেখেছে, অর্থনৈতিকভাবে করেছে সমৃদ্ধ, সেই প্রতিষ্ঠানটি যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য বেশি বেশি আখচাষ করে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এলাকার আখচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার আহ্বান রইল।’
