চুয়াডাঙ্গা সদরের ছয়ঘরিয়া মাঠে হত্যাকাণ্ডের শিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মাঠে হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোর নয়নের পাখিভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হত্যকাণ্ডে জড়িত ওই আসামিকেও শনাক্ত করেছে সদর থানার পুলিশ। গত বুধবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার কালা গ্রাম থেকে পাখিভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের ইসলামের ছেলে পাখিভ্যান চালক আশরাফুলকে আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত নয়নের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকে হত্যাকারীকে আটক করেতে মাঠে নামে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ। পরে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মাঠ পর্যন্ত একাধিক সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়। তাতে সদর থানার পুলিশ নিশ্চিত হতে পারে হত্যাকারীও একজন পাখিভ্যান চালক। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের ইসলামের ছেলে আশরাফুল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত কিশোর নয়ন গাজীর গানের চরম ভক্ত ছিল। তাঁকে গাজীর গান শোনানোর নাম করে ঘাতক আশরাফুল ছয়ঘরিয়াতে নিয়ে এসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাখিভ্যানটি নিয়ে যায়। পরে গত বুধবার দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার কোলা গ্রামের একজনের বাড়ি থেকে পাখিভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘাতক আশরাফুল পাখিভ্যানটি ওই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে পালিয়ে যায়। এদিকে পাখিভ্যানচালক হত্যার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ওই ক্রেতা ভ্যানটি বাড়ি রেখে পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া থেকে নিখোঁজের এক দিন পর চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলার ছোটশলুয়া-ছয়ঘরিয়া গ্রামের গোলাম ফারুকের ফসলি জমি থেকে গত ১২ ডিসেম্বর শনিবার অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় সদর থানার পুলিশ। ওই দিন রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ হলে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত নয়ন কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার নিরিসিংহপুর গ্রামের মিঠু শাহ-এর ছেলে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকে হত্যার কারণসহ এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ।
