ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় আরও চারজন করোনায় আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনা সংক্রমণ কমার ক্ষেত্রে গতকাল সুখবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত সাড়ে পাঁচ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে এর চেয়ে কম সংক্রমণ হারের খবর মেলেনি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছেন ৪০ জন, যা বিগত প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর এর চেয়ে বেশি ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বরও ৪০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে (৩১ আগস্ট) সর্বনিম্ন সংক্রমণ হার ছিল ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে (৩০ সেপ্টেম্বর) ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, অক্টোবরে (২৪ অক্টোবর) ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, নভেম্বরে (১২ নভেম্বর) ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও ডিসেম্বরে গতকাল এই হার ছিল ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আগস্টের শুরুতে সংক্রমণ হার ছিল আরও বেশি। ৩ আগস্ট ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ সংক্রমণ হারের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। জুলাই মাসে সংক্রমণ হার ছিল ১৮ থেকে ২৬ শতাংশের মধ্যে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৭৭ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১২৯ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৮৮৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৭২৯ জন। করোনা শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন ছিলেন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। এর মধ্যে হাসপাতাল আইসোলেশনে ৩৯ জনের ও বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, সাতজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, তিনজন চল্লিশোর্ধ্ব ও দুজনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৪ জন ঢাকা, ১০ জন চট্টগ্রাম, দুজন রংপুর, দুজন ময়মনসিংহ, একজন খুলনা ও একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ও ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। করোনাভাইরাস সংক্রমণে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় গত ৩০ জুন। এর পর মৃত্যু কমে গেলেও শীত আসতেই ফের তা বেড়ে গেছে। দৈনিক যারা মারা যাচ্ছেন তাদের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মৃত্যু হচ্ছে ষাটোর্ধ্ব মানুষের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন আরও ৪জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। নতুন আক্রান্ত ৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩জন ও দামুড়হুদার ১ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। তাঁদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৮ বছর পর্যন্ত।
জানা যায়, গত সোমবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৭টি নমুনা নংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত ১৭টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৪টি নমুনার ফলাফল পজেটিভ ও বাকী ১৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫১৩ জন। গতকাল করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ২৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৭ হাজার ২০১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৬ হাজার ৯৬৮টি, পজিটিভ ১ হাজার ৬২৭টি, নেগেটিভ ৫ হাজার ৫৫৬টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় হোম আইসোলেশনে ছিলেন ৪১ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিলেন ১১ জন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪২ জন। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
