ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হেমন্তের শেষের দিকে শীতের আগমনী ধ্বনি বেজে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে। গত কয়েকদিন ধরেই সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শীতের পরশ লাগছে এই জনপদে। গত শনিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু সূর্যের দেখা মিলছে না। ভোরের বিছানায় শিরশিরে হাওয়ায় ঘুমচোখে মানুষ অবচেতনে টেনে নিচ্ছে পাশে রাখা কাঁথা।
শীতের সঙ্গে হেমন্তের কোথাও একটা বন্ধুতা রয়েছে। কারণ হেমন্তেই দেশজুড়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে শীতের পরশ। বন্ধুতা না থাকলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। শীতের আগমনী বার্তা অন্য ঋতুর মতোই ভিন্ন। গ্রীষ্মে সূর্যের প্রচণ্ড খরতাপ যেমন নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়, শীত জানান দেয় তার কুয়াশার চাদর ছড়িয়ে। মাঝেমধ্যে এই কুয়াশার চাদর এতটাই গাঢ় হয়, তীব্র সূর্যরশ্মিকেও আড়াল করে দেয়।
চুয়াডাঙ্গায় মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশা, সঙ্গে শিশিরমাখা টিপটিপ বৃষ্টি আর শিরশিরে হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের বার্তা। শহরের নানা পেশার মানুষ অবশ্য শীতের এই আগমনকে ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখছেন। কেউ শীতকে জানাচ্ছে স্বাগত আবার কেউ বা প্রকাশ করছে বিরক্তি।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত শনিবার ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এ জেলায়, যা এবার শীতের সর্ব্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা আরও নেমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
শহরের বনানী পাড়ার নাসিম হোসেন অঙ্কুর শীতকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘শীতকাল তিন কারণে আমার পছন্দ। এই সময়টায় সকালে হাটতে বেড়াতে, শীতকালে মশা কম থাকে আর খেজুর রস। শীতের সকালে রসের পিঠার স্বাদ জিহ্বায় লেগে থাকে। শীত এসে পড়েছে এই জনপদে। রাতে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় শীতের আমেজ কম থাকলেও সূর্যের দেখা মিলছে না কয়েদনি ধরে।’
তবে এই শীত নিয়ে দরিদ্র মানুষের ভাবনা একেবারেই বিপরীত। তাদের কাছে শীত মানে বাড়তি খরচ, বাড়তি কষ্ট। ঘন কুয়াশা বা শৈত্যপ্রবাহের সময় অনেকে কাজে বের হতে পারে না বলে কমে যায় আয়-রোজগার। শীত তাদের জন্য নিয়ে আসে বাড়তি দুর্ভোগ।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে সারা দেশের দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।
