৩০ কোটির রাস্তায় নাকাল এলাকাবাসী!

আপলোড তারিখঃ 2020-12-09 ইং
৩০ কোটির রাস্তায় নাকাল এলাকাবাসী! ছবির ক্যাপশন:
কবে শেষ হবে হিজলগাড়ী টু উথলী ও হিজলগাড়ী টু সরোজগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ? আরিফ হাসান, হিজলগাড়ী: উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ী-উথলী এবং হিজলগাড়ী বাজার থেকে সরোজগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক দুটির নির্মাণ কাজ। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই দুই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চলাচলরত এলাকাবাসী। আংশিক কাজ হওয়ার পর সম্পূর্ণ কাজ না হওয়ায় ঘায়ের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে রাস্তা দুটি। রাস্তা দুটিতে গেলে মনে হবে এ যেন ধুলার বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে সড়ক দুটিতে নিম্নমানের ইট-বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। জানা গেছে, গত বছর আরসিআইডি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হিজলগাড়ী জিসি-উথলী আরএডএইচ (সদর অংশ) ৭.৯৫ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ১৩ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ২৮২ টাকা ও একই প্রকল্পের আওতায় সরোজগঞ্জ জিসি-হিজলগাড়ী ১৩.৭৭ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৬ টাকা বরাদ্দ দেয়। গত বছরের ৩১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগর টগর রাস্তা দুটি একই সময় উদ্বোধন করেন। সূত্রে জানা গেছে, এই রাস্তার কাজ পেয়েছে জীবননগরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। মূলত ৭ জন ঠিকাদারের অংশীদারি জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স কাজ পাওয়ার পর উথলী থেকে বেগমপুর অংশ পর্যন্ত কাজ শেষ করে বাকি রাস্তার কাজ প্রায় ৩ মাস পর শুরু করে। কাজ শুরুর পর থেকেই কচ্ছপ গতিতে এগোতে থাকে কাজ। উদ্বোধনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই উথলী অংশ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন করে বাকি কাজ ঝুলিয়ে রাখে। বাকি অংশের রাস্তার পিচ ড্রেজার দিয়ে তুলে বুলড্রোজার দিয়ে তা মাটির সাথে পিষে দেয়। তারপর থেকে প্রায় ৭ মাস কাজ বন্ধ। ফলে রাস্তার বালু, মাটি, খোয়া একাকার হয়ে ধুলার সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু কিছু জায়গায় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই রাস্তায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করার ফলে বর্তমানে জনদুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, এই রাস্তা দিয়ে ধুলা-বালির কারণে চলাচল করা একবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাস্তার পাশের দোকান, বাড়িঘরগুলোতে ধুলার কারণে ব্যবসা ও বসবাস করাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। রাস্তা সংলগ্ন মাঠের আবাদি জমির ফসল ধুলার আস্তরণ থেকে রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেও ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। উপায় না পেয়ে কৃষকেরা রাস্তায় নিয়মিত পানি ঢালছেন তারপরেও ধুলার হাত থেকে ফসল রক্ষা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে তাদের জন্য। এতোকিছুর পরেও ঠিকদারেরা নাকে সরিষা তেল মেখে ঘুমাচ্ছেন। রাস্তার এই জনদুর্ভোগ নিয়ে বেগমপুর ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবক শামীম হোসেন মিজি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাস্তা দুটিতে সৃষ্ট ধুলার কারণে শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি পোষাক-আশাক পর্যন্ত নোংরা হয়ে যায়। এই রাস্তা দিয়ে একবার আসলে বাড়িতে গিয়ে আবার পোশাক পরিবর্তন করতে হয়। তাছাড়া ইটের ছোট-বড় খোয়ার কারণে পিছলে পড়ে প্রতিনিয়ত আহত হন অনেকে এবং মোটরসাইকেলসহ নানা যারবাহনে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে’ বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি একাধিকবার এলজিইডি অফিসকে জানিয়েছি, তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সাধারণ জনগনের কথা কী বলব, প্রতিদিন আমাকেও এই দুর্ভোগ সহ্য করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যেতে হয়।’ কবে নাগাদ রাস্তার কাজ শেষ হবে, এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের কর্ণধার জাকাউল্লাহ বলেন, ‘এই রাস্তাটি বেস্ট কোয়ালিটিতে কার্পেটিংয়ের কাজটি পাথর দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এখনও অফিস থেকে আমাদের হাতে কোনো কাগজ আসেনি। কাগজ হাতে পেলে আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্য কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ৭ জন ব্যবসায়ী পার্টনারের সমন্বয়ে কাজগুলো করা হচ্ছে। আমাদের কাজের সময়সীমা ২৭ মাস হলেও আশা করছি ১৫ মাসের মধ্য সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারব।’ হিজলগাড়ী থেকে বেগমপুর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সমস্যার কারণে কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। প্লান হাতে পাওয়ার পর একমাস সময় লাগতে পারে। নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিময়মাফিক কাজ করা হচ্ছে। এখানে নিম্নমানের কোনো ইট, বালি ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করে বলেন ধুলার কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে রাস্তায় পানি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্লান হাতে পাওয়ার পর হিজলগাড়ী থেকে সরোজগঞ্জ রাস্তার কাজ আগে শেষ হওয়ার পরই আমার অংশের কাজ শুরু হবে।’ এবিষয়ে এলজিইডির চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের মুনশীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হতে এখনও দুই বছর আছে। তবে এই মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ১০ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং শেষ করা হতে পারে, আর বাকি কয়েক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ করতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ভালো কাজের জন্য এলাকাবাসীকে তিনি ধৈর্য্যধারণ করার পরামর্শ দেন।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)