মাটি কাটার মহোৎসব, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি

আপলোড তারিখঃ 2020-11-27 ইং
মাটি কাটার মহোৎসব, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ছবির ক্যাপশন:
দামুডহুদার পুরাতন হাউলী মাঠে চলছে অবৈধভাবে প্রতিবেদক, জয়রামপুর: দামুড়হুদার পুরাতন হাউলীর মাঠে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। অভিযোগ উঠেছে দামুড়হুদার হাউলী গ্রামের আইস উদ্দীন মণ্ডলের ছেলে চাঁনতারা মণ্ডল তাঁর পুরাতন হাউলী মাঠের নিজস্ব সাড়ে ৪ বিঘা জমির ওপর পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে পুরাতন হাউলী গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল গণির ছেলে রবিউল হোসেন (৩৮)। নিয়মবর্হিভূত খনন করায় হুমকির মুখে পড়েছে এই জমির আশেপাশে থাকা অন্যসব আবাদি জমি ও ফসল-সহ বসত বাড়ি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ৪০-৫০ জন শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এই মাটি ৯টি ট্রাক্টর বহন করে বিভিন্ন ভাটায় চলে যাচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটির জন্য ৯ শ টাকা করে পরিশোধ করছেন ভাটা মালিকরা। জমির মালিক চাঁনতারা আলীর কাছে অনুমতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউএনও মহোদয় আমাকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। আর আমার জমিতে আমি যা ইচ্ছা তাই করব।’ এ বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী রবিউল বলেন, এই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছি। ফসলি মাঠের ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘পাশের একটি জমি থেকে বেশ কিছু দিন ধরে অবাধে ফসলি মাঠ খনন করে মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাটি ও বালি ব্যবসায়ী রবিউল। এতে আশপাশের আমাদের ফসলি জমিগুলো নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার মতো কেউ নেই।’ এদিকে আইসদ্দীন মণ্ডলের ছেলে চাঁনতারা আলী প্রভাবশালী হওয়ায় সবাই চুপ থাকছেন, কেউ অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না বলেও নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন সাধারণ চাষি এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের ফসলি মাঠের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘা জমিজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনভর মাটি কাটার কাজ চালিয়ে গভীর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের জমিগুলো বর্ষা মৌসুমে প্রবলে ফসলি মাঠের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিউল রাজনৈতিক ও পেশী শক্তি খাটিয়ে ফসলি মাঠে লেভার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা করে চলেছেন। ফসলি মাঠের আরেক চাষি জানান, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা কেউ শোনে না। মাটি কাটা বন্ধের ব্যবস্থা করে আমাদের কৃষি জমিটুকু রক্ষা করবে কে? অবৈধ পুকুর খননের নামে ভাটায় বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাটি দেখার কি কেউ নেই? এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর খননের জন্য চাঁনতারা আলীকে কোনো ধরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ পুকুর খননের বিষয়টা তিনি নিজে খোঁজ নিবেন বলেও এই প্রতিবেদককে জানান।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)