ছবির ক্যাপশন:
তিন মাস আগে প্রেমিকের হাত ধরে নিখোঁজ কুষ্টিয়ার মিম
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুরের কওমী মাদ্রাসার পিছনে মাথাভাঙ্গা নদীর তীর থেকে এক যুবতীর কঙ্কাল, ব্যবহারিক জামাকাপড় ও ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মৃত ব্যক্তির কঙ্কাল ও আলামত উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে কঙ্কালটি তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মধু খানের মেয়ে কলেজছাত্রী মিম খাতুনের।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে জনৈক ব্যক্তি মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নদীর তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের হাড়-গোড় দেখতে পান। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়-গোড় দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলি ও হাড়-গোড় উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে সেখান থেকে নারীর জামা-কাপড়, এক জোড়া জুতা, একটি ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে একটি স্টিকার কার্ড ও একটি অস্পষ্ট পাসপোর্ট সাইজের ছবি উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, নদীতে যখন পানি বেশি ছিল, তখন হয়ত কে বা কারা মৃত ব্যক্তির লাশ ভাসিয়ে দেয়। এখন পানি কমতে থাকায় এ কঙ্কাল মাটিতে আটকে যায়। নারীর জামা-কাপড় ও ভ্যানিটি ব্যাগ থাকায় বোঝা যাচ্ছে এটি একটি মেয়ের কঙ্কাল। পরে এসব দেখে কঙ্কালটি তিন মাসে আগে নিখোঁজ হওয়া কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মধু খানের মেয়ে কলেজছাত্রী মিম খাতুনের বলে শনাক্ত করেন মিমের আত্মীয়রা। নিহত মিম এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিল।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল খালেক জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধার করা হয় কঙ্কালের শরীরের পরিহিত জামা-কাপড় ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। তিনি জানান, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মধু খানের কন্যা তিন মাস আগে এলাকার এক ছেলের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। লাশের আলামত দেখে ও মিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধারকৃত কঙ্কাল মিমের হতে পারে। কঙ্কালটির ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
