বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইচ্ছেমতো ফি নয়

আপলোড তারিখঃ 2020-11-19 ইং
বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইচ্ছেমতো ফি নয় ছবির ক্যাপশন:
অফিস সময়ে সরকারি চিকিৎসক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন না * বেসরকারি হাসপাতালের ফি নির্ধারণ করবে সরকার * প্রদর্শন করতে হবে লাইসেন্স নিবন্ধন নম্বর * তিন স্তরে নির্ধারিত হবে সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি * ৫ টিমের মাধ্যমে নিয়মিত চলবে অভিযান সমীকরণ প্রতিবেদন: রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি আদায়ের দিন শেষ হতে যাচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তিন স্তরে ভাগ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা মূল্যের ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার। শিগগিরই এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। শুধু তাই নয়, অফিস সময়ে কোনো সরকারি চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে পারবেন না। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হচ্ছে বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন। আর এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা-তা দেখাভালে গঠিত হবে ৩ সদস্যের পাঁচটি পরিদর্শন দল। বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করতেই মূলত এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এগুলোর বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য সেবার নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠাগুলো বিধিবহির্ভূতভাবে বাণিজ্য করে আসছে, তা রোধ হবে। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিশ্চিত হবে সামগ্রিক স্বাস্থ্য সেবা। এতে জনগণ প্রতারিত হবেন না। সঠিক মূল্যে চিকিৎসা পাবেন- এমনটি মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল বুধবার বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবাসংক্রান্ত চিকিৎসা ফি, টেস্ট ফিসহ অন্যান্য ফিগুলো সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ক্যাটাগরিভিত্তিক নির্ধারণ করা হবে। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে কিছু দিনের মধ্যেই গঠন করা হবে একটি শক্তিশালী কমিটি। এ কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীতে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিকের যেসব চার্জ হবে এবং তারা যে সেবা দেবেন, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হবে। হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে করা হবে সবকিছু। তিন আরও বলেন, যে চার্জ নির্ধারণ করে দেয়া হবে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক, হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রদর্শন করতে হবে। সেখানে প্রতিটি সেবার মূল্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এগুলো একটা বোর্ডে টানানো থাকবে, যা সরকারি হাসপাতালে আছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের মান আলাদা, কোনো বড় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হয়তো অনেক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাই ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এমন উদ্যোগে হাসপাতালগুলোও ‘রাজি আছে’। জাহিদ মালেক বলেন, জনগণ যাতে প্রতারিত না হন। জনগণ যাতে সঠিক মূল্যে চিকিৎসা পান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা সঠিক মূল্যে করতে পারেন। সেটি নিশ্চিতে আমরা কমিটি গঠন করে দেব। কমিটি আস্তে আস্তে তাদের নিয়ে এ কাজগুলো করে সুন্দর একটি সমাধান দেবে। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় টাস্কফোর্স কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিভাবে ৪টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হল- ১. অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারবেন না। কোনো কারণে কর্মরত অবস্থায় থাকলে টাস্কফোর্স ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে হবে। ২. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব, ক্লিনিকগুলোতে লাইসেন্স নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ৩. টাস্কফোর্স কর্তৃক সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন/অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ৪. এছাড়া ১৬ নভেম্বরের পর অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি সব সিএসদের বলেছি জেলা থেকে তালিকা পাঠাতে। তারা রোববার পর্যন্ত সময় নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জনবল স্বল্পতা রয়েছে। তালিকা ধরে নিয়মবহির্ভূত হাসপাতাল-ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হবে। তবে একসঙ্গে সব জায়গায় হয়তো অভিযান চালানো যাবে না। আমি সিভিল সার্জনদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)