ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে তিথির হেরফেরের কারণে এবার শরতের পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে হেমন্তে। গতকাল বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামন্ডপে আসতে শুরু করে দেবী দুর্গার ভক্তরা। মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে দশভূজা দেবীর অধিষ্ঠান, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠী তিথিতে মণ্ডপ মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়। সকাল ৮টা ৫৪মিনিটের মধ্যে ছিল ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। এ সময় বেলতলা কিংবা বেলগাছের নিচে দেওয়া হয় ষষ্ঠীপূজা। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস ছাড়াও সব মন্ডপে হয় পুষ্পাঞ্জলি। আজ শুক্রবার শারদীয় দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিনে মহাসপ্তমী। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। এরপর সকাল ৯টা ৫০মিনিটের মধ্যে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে উৎসব চলবে আগামী সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।
এর আগে গত বুধবার বোধনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ঢাকে পড়ে কাঠি। দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনাপূজার মধ্য দিয়ে দেবীর বোধন হয়। বুধবার পঞ্চমী তিথিতে সায়ংকালে অর্থাৎ সন্ধ্যায় এই বন্দনাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল দেবীপক্ষের। প্রতি বছর দেবীপক্ষের শুরুর সপ্তাহবাদে দুর্গাপূজা শুরু হলেও ‘মল মাস’ বা ‘অশুভ মাসের’ কারণে এবার দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে মহালয়ার ৩৫ দিন পার করে।
সনাতন পঞ্জিকা মতে, এবার দেবীদুর্গা এবার দোলায় (পালকি) চেপে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। এর ফল হচ্ছে মড়ক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ। দেবী বিদায় নেবেন গজে (হাতি) চড়ে। এর ফল হিসেবে শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে বসুন্ধরা।
এদিকে, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা মেনে পূজা চললেও, সেখানে নেই উৎসবের ছোঁয়া। আলোকসজ্জা আর সাজসজ্জার কোনো চাকচিক্যের দেখা মেলেনি কোথাও।
পূজার সার্বিক বিষয়ে বড় বাজার মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর দে বলেন, এবারে পূজামন্ডপে ভক্তদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেসঙ্গে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে তবেই পূজামন্ডপ পরিদর্শন করতে হবে। সেই সঙ্গে বরাবরের মতো এবার বিজয়া দশমীতে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে না। সে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে প্রতিদিনের পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা যাবে না।
