গণতন্ত্রচর্চা ও ভবিষ্যত নেতৃত্বসহ সাতটি লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অর্জনে সারাদেশে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সারাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ভোটে নিজেদের প্রতিনিধি বাছাই সম্পন্ন সমীকরণ ডেস্ক: কেবল নির্বাচন নয়, এ যেন নির্বাচনী উৎসব। স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠনের এ নির্বাচনী উৎসবে শামিল হতেই বৃহস্পতিবার নিজ নিজ বিদ্যালয়ে এসেছিল মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত ছিল রাজধানীসহ সারাদেশের ২২ হাজার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পা রেখেই তারা মেতে ওঠে উল্লাসে। নিজ নিজ স্কুলে নির্বাচনী উৎসবে সামিল হয়ে শিক্ষার উন্নয়নে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরই ভোট দিয়ে নির্বাচন করলেন নিজেদের প্রতিনিধি। এ শিশু শিক্ষার্থীদেরই কেউ হয়েছে মন্ত্রী, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রী। চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বদরগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকাল ষ্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন শেষ হয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বেলা ২ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ৭ টি বুথের মাধ্যমে ১১২৮ জন ছাত্র/ছাত্রী বৈধ ভোটার হিসাবে ভোট প্রদান করেন। ৮ টি পদের বিপরিতে ২৫ জন ছাত্রছাত্রী কেবিনেট নির্বাচনে অংশ নেই। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮৭ ভোট পেয়ে গৌরব অর্জন করেছেন দশম শ্রেণীর ছাত্র ফারুক হোসেন। আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা বহুমুখি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন ২০১৭ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে। ইতোপূর্বে ১৯ মার্চ তফশীল ঘোষণা করা হয়। ২০ ও ২১ মার্চ মনোনয়ন পত্র বিতরণ করা হয়েছে। ২২ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। ২৩ মার্চ বাছায় ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। মোট ২৮ জন মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিল। এর মধ্যে ২৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। ২৪ জনকেই বৈধ ঘোষণা করলে তারা নির্বাচনে অংশ নেয়। গতকাল ৩০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৯০৪ জন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ ইকবাল নাজিদ। সহকারি কমিশনার নবম শ্রেণির ছাত্র হাসনাত ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শিশির। সকাল ১০টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক ও ইমরুল হোসেন নির্বাচন পরিদর্শন করেন। ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওরঙ্গজেব মোল্লা টিপু। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, আলমডাঙ্গা কাঁটাভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অবাধ ভোট দানের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য থেকে জানা যায় উক্ত নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জিয়াউর রহমান। জীবননগর অফিস জানিয়েছে, ব্যাপক উৎসব উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে এ নির্বাচনের ভোট গ্রহন। মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার লক্ষে মেহেরপুর সদর উপজেলার আর.আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হযেছে ভোট গ্রহন। চলবে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। কেবিনেটে মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। মুজিবনগর অফিস জানিয়েছে, বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহি মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ১৮ শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে। তন্মধ্যে, ৮ জন নির্বাচিত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ৬৭০ জন। ভোটদান করেছে ৪৯৫ জন। বৈধ ভোট ৩২০, বাতিল ভোট ১৭৫। ভোট চলাকালিন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (মাধ্যমিক) হাসনাইন করিম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এ ভোট। ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, স্কুলজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রচর্চার অভ্যাসসহ সাতটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষে ঝিনাইদহের ৩৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, জেলার ২৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৮৬টি মাদরাসায় একযোগে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রের মানসিকতা বিকশিত হবে।
