ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও বিএনপি নেতা বাবু খানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা বড়বলদিয়া গ্রামে এখনো শোকের মাতম সরেজমিন ঘুরে এসে এমএ মামুন: চুয়াডাঙ্গার বড়বলদিয়া, গোটা গ্রামজুড়ে এখনো শোকের মাতম চলছে। গ্রামটি যেন মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে। গ্রামের চারিদিকেই আহাজারী। গ্রামজুড়ে লাশের মিছিল দেখে হাজারো শোকার্ত মানুষ যেন থমকে যায়। এ গ্রামের সোহরাব, শান্তিসহ অধিকাংশ মানুষের জীবন জীবিকা চলে কায়িক পরিশ্রম করে। তাই ভোরের সূর্য ওঠার আগে রাতের আঁধার ঠেলে প্রতিদিনের মত দুরের কোথাও কাজের সন্ধানে ছুটে চলা। গত রবিবারও ভোরের আযানের ধ্বণি কানে আসার সাথে সাথে একটি আলমসাধুতে (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত) চড়ে ২৫ জনের একটি দল বলদিয়া থেকে প্রায় ৪০কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে আলমডাঙ্গার খুঁদেখালি নামক স্থানে রাস্তার মাটিকাটা কাজের জন্য রওনা দেয় ওরা। কিন্তু ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দামুড়হুদার জয়রামপুর স্কুল বটতলায় তাদের বাহন আলমসাধুটি পৌঁছাতেই একটি ঘাতক ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে তাদের ২৫ সদস্যের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ৮ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৫ জনসহ ১৩ জন নিরীহ খেটে খাওয়া দিন মজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং আহত হয় আরো ১২ জন। আহতরা অনেকে এখনও জানে না তাদের কাজের সাথী বা আপনজনদের ভাগ্যে কি হয়েছে। তবে, এই মৃত্যুর খবর বলদিয়া গ্রামে পৌঁছানোর সাথে সাথে স্বজনদের আহাজারীতে গোটা এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, বিরাজ করতে থাকে থমথমে অবস্থা। একসাথে এতো মৃত্যুর খবর চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও প্রথম। এজন্য প্রশাসনসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ শোকার্ত পরিবারের পাশে এসে দাড়িয়েছে। তবে, এই মৃত্যু দূর্ঘটনায় হলেও একসাথে দূর্ঘটনায় এতগুলো মানুষের প্রাণহানীর কারণ অনুসন্ধান এবং অপরাধীদের উপযুক্ত বিচারের দাবী জানিয়েছে শোকার্ত পরিবার ও এলাকাবাসী। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম বড়বলদিয়া। যেখানে হাত বাড়ালেই বা সামান্য ইশারা ইঙ্গিতে চোরাকারবারীদের সহযোগীতা করলেই অবৈধ্যপথে ভাগ্যের চাকা সচল করা সম্ভব। অথচ গ্রামের এই সোজা সরল মানুষগুলো অবৈধ চেতনায় নিজেদেরকে উদ্বুদ্ধ না করে কায়িক পরিশ্রমে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ছুটে বেড়াতো সৎপথে রুটি রুজির সন্ধানে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, রাস্তার মাটি কাটা ও খোয়াভাঙ্গা এবং ইট বিছানোর কাজ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনে ২শ’টাকা আয় করে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ছিল এরা। কিন্তু নিয়তির এক নির্মম পরিহাস তাদেরকে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হলো এবং অনেকে এখনো হাসপাতালের বারান্দায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্বকে বরণের অপেক্ষায়। এই মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? কেউ নেবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে, কেনো এই সড়ক দূর্ঘটনা? বাড়ী থেকে বের হলে লাশ হয়ে কেনো বাড়ী ফেরা? আর কতদিন এমন লাশের মিছিল ? এমন প্রশ্নের জবাব কারো যেন জানা নেই। তবে এর প্রতিকারের জন্য দাবী উঠেছে। দাবী উঠেছে অপরাধীদের কঠিন ও উপযুক্ত সাজার। জেলায় সড়ক দূর্ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও গত এক বছরে চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সড়কসহ জেলার বিভিন্ন রোডে একাধিক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক পিতা হারিয়েছে তার যোগ্য সন্তান। সন্তান হারিয়েছে একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতা, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামী। অথচ এর বেশীর ভাগ সড়ক দূর্ঘটনার পর চালক রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যদিও সাধরণ মানুষের দাবী চালকদের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা এবং নিয়ন্ত্রনহীনভাবে অথবা হেলপারদের হাতে গাড়ী চালনার দায়িত্বের কারণে বাড়ছে দূর্ঘটনা। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারী আছে বললেও কার্যত দূর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের তেমন করনীয় নেই বললেই চলে। তবে, এই মর্মমান্তি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পরিবার পরিজনদের সাহায্যার্থে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান এবং সরকারী বেসরকারীভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে শোকার্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ। তবে, যেভাবেই এই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে শান্তনা দিক না কেনো, তাদের অপূরনীয় ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। সবশেষে শোকার্ত পরিবারগুলো হয়তো শান্তনা খুঁজে ফিরবে নিয়তির দোহায় দিয়ে। জেলার সচেতনমহলের দাবী সড়কে এমন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ করতে যারা দানবের ভূমিকায়, সেইসব বাস-ট্রাক চালকদের উপযুক্ত বিচার এবং সড়কে আলমসাধু নছিমন করিমনের মত অবৈধ যান চলাচল বন্ধে এখনই উদ্যোগ নেওয়া হোক। এদিকে দূর্ঘটনায় নিহতদের শোকার্ত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি বিএনপি নেতা মাহমুদ হাসান খান বাবু আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে নিহতদের প্রতি পরিবারকে ১০হাজার এবং আহতদের পরিবারকে ৫হাজার টাকা করে প্রদান করেছেন। এছাড়াও তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানএবং সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি আরো সহযোগীতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। আগামী শুক্রবার নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সু¯ত’া কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে বলে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম সময়ের সমীকরণকে জানান।
